প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের নামে প্রতারণা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৬ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের অফিস স্টাফ পরিচয় ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে নাটোরের সিংড়া থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আবু হূরায়রা ওরফে খালেদ ওরফে রাশেদ (৩০)। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি ও রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়নের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নাটোরের পুলিশ সুপার এ ঘটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করেন। এ সময় প্রতারণার কৌশল, গ্রেপ্তার ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা এবং গৃহীত আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে আলোচনা

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতারক চক্র হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিল। চক্রটি সরকারি চাকরি ও রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ দাবি করত।

সম্প্রতি চক্রটির সদস্য আবু হূরায়রা ওরফে খালেদ ওরফে রাশেদ একই কৌশলে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাজনৈতিক পদে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ফরম পূরণের অজুহাতে তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার সমর্থন করে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

এরই ধারাবাহিকতায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় নাটোর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের বাসিন্দা রাশেদকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বাবার নাম জিয়াদুল ইসলাম এবং মায়ের নাম মোছা. রুনা।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৭ নম্বর মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতারের রংপুর কেন্দ্রে রেডিও টেকনিশিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন। রংপুরে অবস্থানকালে একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্যও রয়েছে।

প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে কেউ পরিচয় বা পদবি ব্যবহার করে অর্থ দাবি করলে সতর্ক থাকার এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।