সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন: জামায়াত আমির

Sadek Ali
এম শাকিল রশীদ চৌধুরী
প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৫ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন এমন প্রশ্ন তুলে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদে তারা দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দল হিসেবে থাকতে চান। সরকারের ভালো উদ্যোগকে সমর্থন করবেন, তবে ভুল ও অনিয়মের সমালোচনা করতেও পিছপা হবেন না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, প্রশাসনের দলীয়করণ, গণমাধ্যমের ভূমিকা, প্রবাসীদের অধিকার ও জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন জামায়াত আমির।

আরও পড়ুন: দোলাচলে ১১ দলীয় ঐক্য

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আর আমরা কি বসে থাকব? ইতিহাস কি আমাদের ক্ষমা করবে? সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন?’

তিনি বলেন, অতীতে দেশে এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল, যেখানে সরকারি দলের সবকিছু ভালো আর বিরোধী দলের সবকিছু খারাপ হিসেবে তুলে ধরা হতো। এমনকি সরকারি দল কিছু বলার আগেই বিরোধী দল সমর্থন জানিয়ে দিত। এখন তারা প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্বে রয়েছেন। কেউ চান, তারা সংসদে ভাঙচুর করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করুন। আবার সরকারি দল চায়, তারা সব বিষয়ে সমর্থন জানাক। কিন্তু তারা এ দুই অবস্থানের কোনোটিই গ্রহণ করতে চান না।

আরও পড়ুন: নাহিদ-আখতারের নেতৃত্বে এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা

আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের সমালোচনা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, পুলিশের মধ্যে অনেক দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদক নির্মূলে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এবং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হলো না কেন?

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিকে রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজরা কোনো দলের নয়; তারা দলকে ডুবিয়ে দেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নীতির প্রশ্নে কাউকে বড় করে দেখার সুযোগ নেই। কেউ ভুল করলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত, কিন্তু অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

নিজ দলের এক সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তারা ২৪ ঘণ্টাও সময় নেননি। তাঁর সঙ্গে দলের আর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশের কোথায় কী ঘটছে, তা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। তবে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে সংবাদমাধ্যমেরও দায় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিকদের আরও সাহসী ও নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চারটা চোখ থাকতে হবে। দেশের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

দেশকে সবার উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বহুমাত্রিক সমাজ ও বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পারস্পরিক সহমর্মিতা প্রয়োজন। দেশের সব দল ও ধর্মের মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। সম্প্রতি দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দেশের স্বার্থে কাজ করা। গদি কখনো চিরস্থায়ী হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতা তাদের মূল লক্ষ্য নয়; দেশবাসীর ভালো থাকাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। তবে বন্দীদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা উচিত, যাতে তাঁরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, তা জানা যায়।

এ ছাড়া বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে সময় কমে আসার প্রসঙ্গ তুলে প্রবাসীদের আন্দোলনের সফলতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন জামায়াত আমির।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবেন না। অতীতেও তারা এভাবে নির্বাচন করেননি। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মৌলভীবাজার জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী প্রমুখ।