ব্যালট বাক্স নষ্ট বা হারালে ভোটগ্রহণ বন্ধ, নতুন তারিখে হবে পুনঃভোট : নির্বাচন কমিশন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ন, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ চলাকালে কোনো কেন্দ্রের ব্যালট বাক্স নষ্ট হওয়া, হারিয়ে যাওয়া কিংবা জোরপূর্বক অপসারণের ঘটনা ঘটলে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জারি করা একটি পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসাররা ভোটগ্রহণের দিন ও সময় উল্লেখ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন এবং তা স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারের ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন: শেষ দিনে ইসিতে উপচে পড়া ভিড়, ১৩১ প্রার্থীর আপিল দায়ের

ইসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের সময় প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণে ভোট বিঘ্নিত হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হলে তিনি ভোট বন্ধ ঘোষণা করবেন। ব্যালট বাক্স নষ্ট, জোর করে অপসারণ বা হারিয়ে গেলে এবং ফল নির্ধারণের উপযোগিতা নষ্ট হলে সেই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকবে এবং ফলাফল গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনি এলাকায় স্থগিত কেন্দ্রের ফল ছাড়া যদি সামগ্রিক ফল ঘোষণা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রেও পুনঃভোটের নির্দেশ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সব ভোটার নতুন তারিখে পুনরায় ভোট দিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: জবির হল সংসদে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত প্যানেলের জয়

ইসি জানিয়েছে, বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হলে কমিশন প্রয়োজন অনুসারে ভোটগ্রহণ বা পুরো নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।

এ ছাড়া ডাকযোগে ভোটাদান (ওসিভি ও আইসিপিভি) সংক্রান্ত নির্দেশনাও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবাসী ও নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটাররা কমিশনের নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন সম্পন্ন করে ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন।

ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত পরিবেশবান্ধব ব্যানার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা সংবলিত ফেস্টুন দৃশ্যমান স্থানে টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গণভোটের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে পৃথক ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

ভোটগ্রহণ শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনার বিবরণীর একটি কপি প্রিজাইডিং অফিসাররা ডাকযোগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এজন্য বিশেষ খাম সরবরাহ করা হবে এবং পোস্ট অফিসগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।