চট্টগ্রামের দুই আসনের ভোট-জটিলতা নিষ্পত্তিতে শুনানি ৯ জুন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ন, ১৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৪ অপরাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের ফলাফল স্থগিত থাকা নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় আগামী ৯ জুন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে স্থগিত থাকা ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে করা পৃথক আবেদন নথিভুক্ত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী–এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটের ২৫ দিন আগেই চূড়ান্ত হবে কেন্দ্রের তালিকা

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৪ আসনে এবং সারোয়ার আলমগীর চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে তাঁদের প্রার্থিতা নিয়ে করা আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে সংশ্লিষ্ট দুই আসনের নির্বাচনী ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের পৃথক আদেশে দুই প্রার্থীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকার বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চান একই আসনে আনোয়ার সিদ্দিকী। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে আবেদন করেন মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁরা পৃথক লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন গড়তে প্রস্তুতি জোরদার, জাতীয় ভোটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে ইসি

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ জামায়াতের দুই প্রার্থীর করা পৃথক লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। তখন আদালতের আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ী হলেও তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফলাফল প্রকাশ আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

পরবর্তীতে গত ৩১ মার্চ জামায়াতের দুই প্রার্থী পৃথক আপিল দায়ের করেন। এরপর ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আপিল দুটি পাঠান।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার আপিল দুটি কার্যতালিকায় ওঠে। একই সঙ্গে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে বিএনপির দুই প্রার্থীর করা পৃথক আবেদনও শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। আপিল বিভাগের আগের আদেশ সংশোধনের আবেদন জানিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন।

শুনানিতে আপিলকারীদের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিহাদ কবির ও মোস্তাফিজুর রহমান খান। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।

পরে আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনায় ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণসংক্রান্ত আবেদন নথিভুক্ত রাখা হয়েছে এবং মূল আপিল শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর এখন নির্ভর করছে চট্টগ্রামের ওই দুই আসনের জনপ্রতিনিধিত্ব প্রশ্নের নিষ্পত্তি।