কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে গাজীপুর পুলিশের সাফল্য
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মোল্লা (৪০) কি পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন? ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার, পদ্মা সেতুর সিসিটিভির ফুটেজ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ধারণা করছে পুলিশ। তবে লাশ না পাওয়া পর্যন্ত নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তি ফোরকান কি না, সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন এমন তথ্য তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: শ্রীপুরে নিখোঁজ অটোরিকশা চালকের মরদেহ মিলল জঙ্গলে
তিনি বলেন, গত ৮ মে রাতে কাপাসিয়া থানার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে ফোরকান মোল্লার স্ত্রী মোছা. শারমিন (৩৫), তিন কন্যাসন্তান মীম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক মো. রসূল মোল্লার (২২) লাশ উদ্ধার করা হয়। এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা আত্মগোপনে ছিলেন। পাঁচজনের অভিযুক্ত হত্যাকারী ফোরকান মোল্লা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। ওই রাতে কোনো এক সময়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতনকারী দ্রব্য মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের খাইয়ে অচেতন করে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শারমিনের পিতা মো. শাহাদৎ মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম অভিযুক্ত হত্যাকারীকে ধরতে মাঠে নামে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, আলামত জব্দ এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি গত ১১ মে মেহেরপুর সদর থানা এলাকার একজন ট্রাকের হেলপারের নিকট থেকে উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: সেই ঘাতক ফোরকান পদ্মায় লাফ দিয়েছে ধারণা, মোবাইল উদ্ধার
তদন্তকালে জানা যায়, পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচলকারী একটি ট্রাকের ওই হেলপার ৯ মে সকাল আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে সেটি নিয়ে নেয়। তার তথ্যে পদ্মা সেতুর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই দিন সকাল ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে এক ব্যক্তি সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার থেকে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে নেমে (হেলপার কর্তৃক মোবাইল প্রাপ্তির স্থানে) কিছু একটা রেলিংয়ের পাশে রেখে ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করে পদ্মা সেতুর রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেয়।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লা। তবে লাশ না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার থানাগুলোতে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলাটির তদন্ত চলমান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান, আবুল খায়ের, আমিনুল ইসলাম এবং তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. যোবায়ের।





