প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করবেন

আমার পুলিশ আমার দেশ সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানে এবার পুলিশ সপ্তাহ

Sadek Ali
মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব
প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ন, ০৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩১ অপরাহ্ন, ০৯ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

"আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"- প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য  আয়োজনে রবিবার থেকে  চারদিনব্যাপী (১০-১৩ মে) উদযাপিত হচ্ছে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।

রবিবার (১০ মে)  সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করে প্রধান অতিথি হিসেবে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করবেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পালন করা হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ। দীর্ঘ স্বৈরাচারী সরকারের কালিমালিপ্ত পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে শক্তিশালী পেশাদার বাহিনী গড়ে তুলতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সাথে গড়ে তুলতে সাইবার পুলিশ বাহিনী গঠনকেই এবার গুরুত্ব দেয়া হবে। তবে একটি রক্তক্ষয়ী  অভ্যুত্থানের পরও পুলিশ বাহিনীর কাজে বিতর্ক যাচ্ছেনা।

আরও পড়ুন: শিল্পকারখানা চালু থাকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, স্থানীয় অর্থনীতি সচল থাকে : বাণিজ্যমন্ত্রী

এবার পুলিশ পদক প্রদানে তদবিরকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবারেও পদক প্রাপ্তদের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। 

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণী দিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

 রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, "পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। বিভিন্ন জাতীয় আয়োজন ও ক্রান্তিকালীন সময়েও পুলিশ বাহিনীর নৈর্ব্যক্তিক, পেশাদার ও জনবান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, "বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরে-বাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার। 

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ কারণে পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।" 

এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।

বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দিবেন। তবে এবারের পুলিশ পদক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ পদক প্রাপ্তদের তালিকা নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অভিযোগ আছে তদবিরের কারণে কোন অবদান ছাড়াই অনেককেই পুলিশ পদক দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে পদক পাওয়া অনেককে পদক দেয়া হয়েছে। 

বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ, বিদেশী  কূটনীতিকগণ, অতিরিক্ত আইজিগণ, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপার এবং নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ বিশেষভাবে সাজানো হবে। 

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ এর উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন, পুলিশ সদস্যদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ প্যারেড, ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, আইজি'জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার পুরস্কার বিতরণ, পুলিশ কর্মকর্তাগণের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীবর্গ এবং আইজিপির সম্মেলন ইত্যাদি।

পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। আগামী ১৩ মে পুলিশ সপ্তাহ শেষ হবে। 

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ অনুষ্ঠানসূচি কার্যক্রম, বার্ষিক পুলিশ প্যারেড

১০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির স্টল পরিদর্শন

পুলিশ সদস্যদের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ প্যারেড

মধ্যাহ্নভোজ

বার্ষিক নৈশভোজ

২য় দিন ১১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ

পুনাক বার্ষিক সমাবেশ

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারগণের সাথে

শাপলা হল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা

শীল্ড প্যারেড ফাইনাল প্রতিযোগিতা

ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারগণের সাথে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ এর প্রশাসনিক বিষয়ক সম্মেলন

পুরস্কার বিতরণ (আইজি'জ ব্যাজ, শীল্ড প্যারেড, অস্ত্র/মাদক উদ্ধার) প্রীতিভোজ

এসবি/সিআইডি/পিবিআই কর্তৃক প্রেজেন্টেশন

উর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারগণের সাথে

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের ব্রিফিং। 

১৩ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারগণের সাথে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ এর অপরাধ বিষয়ক (SB/CID/PBI) সম্মেলন

মধ্যাহ্নভোজ

বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স মেস এর বার্ষিক সাধারণ সভা

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের সাথে কর্মরত পুলিশ অফিসারদের পুনর্মিলনী।।