দেশে সয়াবিনের বাৎসরিক চাহিদা ১৬ লাখ মেট্রিক টন

Sanchoy Biswas
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ন, ০৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৮ অপরাহ্ন, ০৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে সয়াবিনের বাৎসরিক চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন, দেশে উৎপাদন হয় কেবল ৩-৪ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে দেশের নোয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় মাত্র প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়। চাহিদা পূরণ করতে প্রতি বছর ৫৬ হাজার কোটি টাকার সয়াবিন ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি করতে হয়। সয়াবিন চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে এ আমদানি কমিয়ে বরং রফতানিমুখী করা সম্ভব। যা দেশের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ‘সয়াবিন গবেষণা’ বিষয়ক কর্মশালায় সয়াবিনের পুষ্টিগুণ, উৎপাদন সম্ভাবনা, গবেষণা অগ্রগতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনায় বক্তারা এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে একদিনে তিন মরদেহ উদ্ধার

গাকৃবির এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অতিথি ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। এগ্রোনমি বিভাগের সাবেক প্রফেসর এবং বাংলাদেশের সয়াবিন গবেষণায় পথিকৃৎ ড. এম. আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইন প্রধান মোহাম্মদ মজিবুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) থেকে আগত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘সয়াবিনে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহ ও প্রাণিখাদ্যের পুষ্টি চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এত গুণাগুণ থাকা সত্ত্বেও দেশে সয়াবিনের সহজলভ্যতা এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছেনি। এজন্য এ খাতকে এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কনসোর্টিয়াম আয়োজনের আহ্বান জানান উপাচার্য।

আরও পড়ুন: নাজিরপুরে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ শিক্ষক ও তিন কর্মচারীর বিপরীতে ছাত্রী তিনজন

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. এম. এ মান্নান ভেজিটেবল সয়াবিনের ওপর তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন। পাশাপাশি আগত শিক্ষার্থীরা গত এক বছরে সয়াবিন নিয়ে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রম, গবেষণালব্ধ ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সেকশন অফিসার মো. রনি ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সয়াবিন গবেষণার সাম্প্রতিক অগ্রগতি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ গবেষণার দিকনির্দেশনা নিয়ে গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় এবং ফলপ্রসূ আলোচনা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। গাকৃবি এ পর্যন্ত ৬টি ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্বলিত সয়াবিনের জাত উদ্ভাবন করেছে।