গ্রামই জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি, পল্লি উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
গ্রাম ও পল্লিকেই জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ পল্লি ছাড়া একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উদ্যাপন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।
সোমবার (৬ জুলাই) পালিতব্য ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রোববার (৫ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেলের গেজেটে বিলম্ব, সেপ্টেম্বরে প্রকাশের সম্ভাবনা; বকেয়াসহ বেতন পাওয়ার আশা
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার দেশের প্রতিটি মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই গ্রাম ও পল্লিকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘উন্নত পল্লি, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ সরকারের উন্নয়ন দর্শন, জনগণের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অভিযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, কুটিরশিল্প ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই পল্লি উন্নয়ন শুধু একটি খাতভিত্তিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল ও স্থায়ী করা সম্ভব।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন। ওই কর্মসূচিতে কৃষি উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, যুবসমাজকে সংগঠিত করা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, কৃষক সংগঠন গঠন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, খাল খনন, সেচ ও কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তৃণমূল জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রবর্তিত ‘গ্রাম সরকার ব্যবস্থা’ স্থানীয় উন্নয়নকে নতুন গতি দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর শাসনামলেও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সে সময় গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং ক্ষুদ্র ঋণসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পল্লি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর নির্বাচিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, কৃষি ঋণ মওকুফ, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নারী ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
পল্লিকে আরও সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও টেকসই করে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তর-সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাণীর শেষাংশে তিনি বলেন, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের পল্লি অঞ্চল আরও আধুনিক, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা এবং দেশের সব পল্লিবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।





