বিসিক বর্ষা মেলা-২০২৬ উদ্বোধন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে পাঁচ দিনের আয়োজন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ন, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৭ অপরাহ্ন, ০৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্যকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক বর্ষা মেলা-২০২৬’-এর আয়োজন করেছে। রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

উদ্বোধনের পর শিল্পমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আরও পড়ুন: অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

মেলায় হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, জামদানি, শতরঞ্জি, মণিপুরী শাড়ি, বস্ত্রজাত পণ্য, নকশিকাঁথা, পাটজাত পণ্য, বাঁশ ও বেতজাত পণ্য, মধু এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্যসহ মোট ৫৬টি স্টল স্থান পেয়েছে।

রাজধানীর ৩৯৮, তেজগাঁও শিল্প এলাকা-স্থিত বিসিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত এ মেলা ৫ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আরও পড়ুন: উড্ডয়নের পর ইঞ্জিনে ত্রুটি, ঢাকায় এয়ার অ্যাস্ট্রার উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণ

আয়োজকদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র, কুটির ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তারা এ মেলায় তাদের মানসম্মত ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন। দেশীয় শিল্প, সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

একই দিনে বিসিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক শিল্পনগরীসমূহের অবদান ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে কর্মশালার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে বিসিকের কার্যক্রম, অর্জন, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। ৬৯ বছরের পথচলায় বিসিকের অবদান এবং শিল্প খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও কর্মশালায় আলোচনা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম।

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, চলমান ও নতুন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্প খাতের সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিসিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের শিল্পায়নের অন্যতম ভিত্তি। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও শিল্পায়িত বাংলাদেশ গঠনে বিসিক কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্পনগরী ও শিল্পপার্ক স্থাপন, বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, শিল্পনগরীর অনাবাদ্দ প্লট শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন, ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং নকশাকেন্দ্র আধুনিকায়নের মতো বিষয়ে বিসিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে।