চারবার বিচ্ছেদের পর ব্রেকআপ নিয়ে জেনিফারের ভিন্ন বার্তা

Any Akter
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ন, ০২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হলিউডের জনপ্রিয় পপ তারকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আলোচনায়। চারবার বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানলেও ৫৬ বছর বয়সী এই তারকা বিচ্ছেদকে জীবনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন না। বরং তার মতে, ব্রেকআপ বা ডিভোর্স মানুষের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করার সুযোগ এনে দেয়। তাই সম্পর্ক ভাঙলে মন খারাপ না করে সেটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তার নতুন রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্র ‘অফিস রোমান্স’–এর প্রচারণায় অংশ নিয়ে মিশরীয় কমেডিয়ান ও শিল্পী কারিম রাহমারের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সাবওয়ে টেকস’-এ নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জেনিফার লোপেজ।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ক্রিকেট স্টেডিয়াম চালু করলেন শাহরুখ খান

আলাপচারিতায় লোপেজ বলেন, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তিনি পেয়েছেন কঠিন সময় ও হৃদয়ভাঙার অভিজ্ঞতা থেকে।

তার ভাষায়, “মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং আবেগীয় দিক থেকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিকাশগুলো ঘটেছে হৃদয় ভাঙার পর থেকে। এটা শুধু রোমান্টিক সম্পর্ক নয়, ক্যারিয়ারের ব্যর্থতা বা কাজের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য।”

আরও পড়ুন: ‘তুমি আমাদের গর্ব’, জয়াকে বললেন চঞ্চল চৌধুরী

লোপেজের মতে, বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা মানুষকে নিজের ভেতর তাকাতে শেখায়। তখন মানুষ নিজের জীবন, সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে।

তিনি বলেন, “হৃদয় ভাঙলে মানুষ নিজেকে প্রশ্ন করে—কী ঘটল, আমি এখন কী করব, কেন এমন হলো, কিংবা আমি আরও ভালো কী করতে পারতাম। এই আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়েই মানুষ নিজেকে বদলাতে পারে।”

ব্রেকআপ বা ডিভোর্সকে সমাজ সাধারণত নেতিবাচকভাবে দেখলেও জেনিফার লোপেজের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তার মতে, সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত অনেক সময় সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই ইতিবাচক হতে পারে।

তিনি বলেন, “আমাদের উচিত ব্রেকআপের পর পার্টি করা। কেউ যদি বলে, ‘তোমাদের ব্রেকআপ হয়েছে’, তাহলে উত্তর হওয়া উচিত—‘অভিনন্দন।’ কারণ আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং হয়তো সেটিই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো হয়েছে।”

ব্যক্তিগত জীবনে জেনিফার লোপেজ প্রথম বিয়ে করেন ১৯৯৭ সালে ওজানি নোয়াকে। সেই সম্পর্ক এক বছরের মধ্যেই শেষ হয়। পরে তিনি নৃত্যশিল্পী ক্রিস জুড (২০০১–২০০৩) এবং গায়ক মার্ক অ্যান্থনির (২০০৪–২০১৪) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মার্ক অ্যান্থনির সঙ্গে তার যমজ সন্তান মাক্স ও এম্মে রয়েছে।

এরপর ২০১৯ সালে সাবেক বেসবল তারকা অ্যালেক্স রদ্রিগেজের সঙ্গে বাগদান হলেও ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। একই বছর পুরোনো প্রেমিক ও অভিনেতা বেন অ্যাফ্লেকের সঙ্গে আবার সম্পর্কে জড়ান তিনি। ২০২২ সালে তারা বিয়ে করেন। তবে সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; ২০২৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।