শি জিনপিং ও তারেক রহমানের বৈঠক আজ

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:১০ পূর্বাহ্ন, ২৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:১১ পূর্বাহ্ন, ২৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতাসহ ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫, নিখোঁজ ৪৬ হাজারের বেশি

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেছেন, কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা জোরদার, বাস্তবমুখী সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশকে নিয়ে কাজ করতে চীন প্রস্তুত। তিনি বাংলাদেশ থেকে আরও উন্নত মানের পণ্য আমদানি, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং নতুন জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি ‘এক-চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে চীনের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পেলেন মন্ত্রীর মর্যাদা

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, সই হওয়া এমওইউগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবসম্পদ, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা এবং গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্পাদিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানি বিষয়েও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

এদিকে, চীন সফরের শেষ দিনে শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এবং কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের ‘পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময়’-এর অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গোওইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। একই দিনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও জনগণের পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।