হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। তবে শুধু এই চুক্তির মাধ্যমে প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তেহরান। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালিতে তাদের আরও একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালির দুই পাশে অবস্থিত ইরান ও ওমানের মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক তেল পরিবহন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: লিপ কিস বাবাকে ঘিরে তোলপাড়, ভিডিও ভাইরাল
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত অবসানের অংশ হিসেবে কৌশলগত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও ওমানের সম্ভাব্য চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমান সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার বিষয়টি আরও কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইরানের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
আরও পড়ুন: গ্রিসের উপকূল থেকে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই সুদানি ও বাংলাদেশি
তিনি বলেন, প্রণালিতে আগে ব্যবহৃত নৌপথ তেহরানের কাছে এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। স্থায়ী নৌপথের কারিগরি ও আইনি বিষয়গুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওমানের সঙ্গে একটি সাময়িক নৌপথ চালুর বিষয়ে আলোচনা করছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরু করে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
এদিকে শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত একটি ট্যাঙ্কারে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে ওই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো আমিরাতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হামলার খবর প্রচার করলেও সেখানে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স





