যুক্তরাষ্ট্রের আবাসিক এলাকায় ৬ লাখ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়া হচ্ছে

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে নতুন এক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাড়ির আঙিনায় শত শত পুরুষ মশা ছেড়ে দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা টড মন্টগোমারি। তবে এটি কোনো দুষ্টুমি নয়; বরং মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ।

মন্টগোমারি যে মশাগুলো ছাড়ছেন, সেগুলো সবই পুরুষ মশা। পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। এসব মশার শরীরে থাকে ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। এই পুরুষ মশাগুলো যখন ওলবাকিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন স্ত্রী মশার ডিম ফুটে নতুন মশার জন্ম হয় না। ফলে ধীরে ধীরে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন: গ্রিসের উপকূল থেকে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই সুদানি ও বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ পুরো এলাকায় প্রায় ৬ লাখ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর ৩২ বছর বয়সি প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে। এতে রোগবাহী মশার বংশবিস্তার এবং সক্রিয় থাকার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হুথিদের হামলায় ইয়েমেনে বড় যুদ্ধের আভাস

‘জ্যাপ মেলস’ নামে বাজারজাত করা এই পদ্ধতি শুধু এশিয়ান টাইগার মশার ক্ষেত্রে কার্যকর। এশিয়ান টাইগার মশা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি নয়। তবে এটি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে। সম্প্রতি উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রথম ঘটনা শনাক্ত হওয়ায় মশাবাহিত রোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কেন্টাকির বাসিন্দা ও সাবেক বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী মন্টগোমারি প্রতিরক্ষা খাতে চাকরির জন্য ওয়াশিংটন এলাকায় আসেন। পরে ২০২৩ সালে তিনি মশা নিয়ন্ত্রণের প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। আবাসিক এলাকায় মশা দমনে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প তৈরি করাই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য।

বর্তমানে কীটতত্ত্বে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত মন্টগোমারি জানান, দেশীয় উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারী প্রাণীর প্রতি আগ্রহ থেকেই তার এ উদ্যোগের শুরু। নিজের বাড়ির আশপাশে কীটনাশক ছিটানোর দৃশ্য দেখে তিনি এর তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প খুঁজতে আগ্রহী হন।

ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া অনেক মশার শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পুরুষ মশার শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া থাকলেও স্ত্রী মশার শরীরে না থাকলে, কিংবা দুই মশার শরীরে ভিন্ন ধরনের ওলবাকিয়া থাকলে তাদের মিলনের পর বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়।

বিশ্বে এ ধরনের কর্মসূচির বড় সরকারি উদ্যোগগুলোর একটি চলছে সিঙ্গাপুরে। ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামে ২০১৬ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির আওতায় বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়া হচ্ছে।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওলবাকিয়া-ভিত্তিক এই পদ্ধতিতে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

 সূত্র: দ্য স্ট্যান্ডার্ড