বিশ্ববাজারে বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:০০ পূর্বাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে হামলার ঘটনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার দিকে অক্টোবর সরবরাহের ব্রেন্ট ফিউচার ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে লেনদেন হয়। ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ সময়ের তুলনায় এই দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বিয়ের যাত্রীবাহী রিকশা খালে, নিহত ১২

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে চুক্তির আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে এ বিষয়ে আস্থা স্পষ্টভাবেই কমছে।

তিনি বলেন, আলোচনা যত দীর্ঘ হচ্ছে এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া যত বেশি সময় পার হচ্ছে, ততই দ্রুত কার্যকর কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় বাড়ছে। মাসের শুরুতে যে আশাবাদ ছিল, তা এখন ধীরে ধীরে সতর্ক অবস্থানে পরিণত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলায় জাহাজ অচল

মঙ্গলবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অভিযোগ করে, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ইরানপন্থি হুতিরা ছয়জনকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে হামলার পর উদ্ধার অভিযানে যাওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যও ছিলেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের কোস্টগার্ড।

পরে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায় পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বার্তার মধ্যেই গত এক সপ্তাহ ধরে তেলের দাম বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। দোহা যত দ্রুত সম্ভব প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রত্যাশা করছে।

তবে ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে তাদের আলোচনা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয় থেকে আলাদা। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে এই জলপথে জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১০টি জাহাজ চলাচল করেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করত।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার পূর্বাভাসে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন সংঘাত-পূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি ফিরবে বলে তারা আশা করছে না। সংস্থাটি ২০২৬ সালে ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উভয় দিকে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত ওপেকের তেল উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত থাকবে।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন করে আশাবাদ তৈরি না হলে মৌলিক পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে শক্ত অবস্থানে থাকতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা