এআই চিপের চাহিদায় রপ্তানিতে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন রেকর্ড

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, ০১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত চিপের ব্যাপক চাহিদার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি নতুন মাসিক রেকর্ড গড়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির মোট রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১২০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

প্রকাশিত প্রাথমিক শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে এটিই দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ রপ্তানি। এর আগে চলতি বছরের জুনে ১০২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছিল, যা ছিল আগের রেকর্ড।

আরও পড়ুন: সিরিয়ায় বাসে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৭

রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ। সেপ্টেম্বরে চিপ রপ্তানি ২৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৬০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই এসেছে চিপ খাত থেকে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রপ্তানি হয়েছে ৮১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এরই মধ্যে এই পরিমাণ পুরো ২০২৫ সালের রপ্তানিকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে দেশটির মোট রপ্তানি ছিল ৭০৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: স্ত্রীর মৃত্যুর পর হাসপাতালে মাহাথির মোহাম্মদ

এ বছরের প্রথম নয় মাসে দক্ষিণ কোরিয়া ৪৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে।

দেশটির বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী কিম জিয়ং-কোয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, এই অর্জন দেশটির শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতার প্রমাণ। বৈশ্বিক বাজারে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে উদ্যোক্তাদের পরিশ্রমের কারণেই এই সাফল্য এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কিম জিয়ং-কোয়ান বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের রপ্তানির লক্ষ্যে এগোচ্ছে। তবে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা বাণিজ্য সুরক্ষাবাদ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দেশটির রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

এদিকে, এআই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত মেমোরি চিপের বৈশ্বিক সংকট দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিকে আরও চাঙা করেছে। এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি বিশ্বের অন্যতম বড় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদক।

দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চগতির মেমোরি চিপ বা হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ডায়নামিক র‌্যান্ডম-অ্যাক্সেস মেমোরি (ডিআরএএম) বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এই দুই প্রতিষ্ঠান।

এআই প্রযুক্তির প্রসারের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও। এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে দেশটির নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি গত পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক বছরের তুলনায় এ সময়ে জিডিপি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালে দেশটির প্রকৃত জিডিপি ৩ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। করোনা মহামারির অস্বাভাবিক বছরগুলো বাদ দিলে ২০১৭ সালের পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

এআই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ দেশটির শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কসপি (KOSPI) প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা