গ্যাস সংকট কাটিয়ে ফের চালু ডিএপি কারখানা

Sadek Ali
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ন, ০৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩১ অপরাহ্ন, ০৯ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের গ্যাস ও কাঁচামাল সংকটের পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। শনিবার দুপুর ২টা থেকে পুনরায় চালু হয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সার কারখানাটি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কারখানা সচল থাকলে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন সম্ভব হবে, যা চলতি মৌসুমে কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।  

ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক জানিয়েছেন, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) উৎপাদনে ফেরার পর অ্যামোনিয়া সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় ডিএপি কারখানাও পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। কয়েকদিন ধরে প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়া মজুদ ও কারিগরি প্রস্তুতি শেষে উৎপাদন শুরু হয়। 

আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকায় বসছে ২৮ পশুর হাট

কেন বন্ধ হয়েছিল উৎপাদন: 

গত মার্চ থেকে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় চট্টগ্রামের কাফকো ও চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। ফলে ডিএপি কারখানায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরে গত ১৮ এপ্রিল উৎপাদন পুরোপুরি স্থগিত করা হয়। 

আরও পড়ুন: আকুর বিল পরিশোধের পর কমল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএপি সার উৎপাদনে অ্যামোনিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। এটি ছাড়া উৎপাদন চালানো সম্ভব নয়। কয়েক সপ্তাহ কারখানা বন্ধ থাকায় দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছিল।

দেশের মোট চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন এখনও সীমিত। ডিএপিএফসিএল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কারখানাটির দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন হলেও নানা কারিগরি সীমাবদ্ধতা ও গ্যাস সংকটে উৎপাদন অনেক সময় কমে যায়। 

বিসিআইসি সূত্র বলছে, আমন মৌসুমকে সামনে রেখে সরকার ইতোমধ্যে ডিএপি সার পরিবহন ও গুদামজাতকরণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। দেশের বিভিন্ন বাফার গুদামে সার মজুদ রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।  

তবে কৃষকদের অভিযোগ, অনেক সময় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হয়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবহন সংকট ও ডিলারদের অতিরিক্ত মুনাফার কারণে দাম বেড়ে যায়।

কৃষক কি ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন?

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার ভর্তুকি দিয়ে সার বিক্রি করলেও মাঠপর্যায়ে সব কৃষক সমানভাবে সুবিধা পান না। কোথাও কোথাও সংকটের গুজব ছড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। ফলে কৃষককে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হয়।

কৃষক নেতাদের দাবি, ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং বাড়াতে হবে এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে উৎপাদন বাড়লেও সাধারণ কৃষক তার সুফল পুরোপুরি পাবেন না।

উৎপাদন বাড়লেও রয়ে গেছে বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সার খাত এখনও গ্যাসনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সরাসরি উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। চলতি বছর গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকটি ইউরিয়া ও সার কারখানা দীর্ঘসময় বন্ধ থাকায় কৃষি খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়। 

তাদের মতে, কৃষিতে স্থিতিশীল উৎপাদন বজায় রাখতে হলে—সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।  এছাড়াপুরোনো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করতে হবে। 

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ডিএপি কারখানার পুনরায় উৎপাদনে ফেরা কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক খবর হলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বাজারে কঠোর নজরদারি। তখনই কৃষক প্রকৃত অর্থে ন্যায্যমূল্যে সার পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।