সংবাদ সংগ্রহকালে ছাত্রদলের কর্মীদের হেনস্তার শিকার কুবির সাংবাদিক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রশাসনিক ভবনে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে কুবি শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৫ মে) কোষাধ্যক্ষের দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন, মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদেক সাকের, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (১২তম আবর্তন) শিক্ষার্থী মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত পাটোয়ারী, এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য। এর মধ্যে সাদেক সাকের ও মোতাসিম বিল্লাহ পাটোয়ারী কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ'র কর্মী।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা: অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পূর্বে ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার আগে মোতাসিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত নিষিদ্ধ ঘোষিত শাখা ছাত্রলীগের রেজা ইলাহীর কর্মী ছিলেন এবং তৎকালীন দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার প্রতিনিধিকে সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি ধামকি দেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাহাদুল ইসলাম সুজন। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বেঙ্গল প্রেসের কুবি প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
আরও পড়ুন: জাদুকাটা বালুমহালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৫ শ্রমিকের অর্থ ও কারাদণ্ড
ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক ভবনে কোষাধ্যক্ষের দপ্তরে গিয়ে সিন্ডিকেট বন্ধ রাখতে হুমকির দেয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী। খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে কোষাধ্যক্ষের দপ্তরে উপস্থিত হয় ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। এসময় ঘটনার ভিডিও করতে গেলে এক সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। একজন সাংবাদিক তার ব্যাগ নিতে বাহিরে আসলে, তাকে গলায় চেপে ধরে এবং কলার ধরে ভিডিও ফুটেজ কেন নিয়েছে বলে হুমকি দিয়েছে ছাত্রদলের কর্মী সাদেক সাকের। এমতাবস্থায় অন্যান্য সাংবাদিকগণ তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সেখানে গেলে, তাদের হাত থেকে আবারও মোবাইল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে ছাত্রদলের কর্মী মোতাসিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত।
ভুক্তভোগী রাহাদুল ইসলাম সুজন বলেন, “আমি সংবাদ সংগ্রহের কাজে প্রশাসনিক ভবনে গিয়েছিলাম। তখন ট্রেজারারের কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় শাখা ছাত্রদলের কর্মী সাদেক সাকের হঠাৎ আমার গলা চেপে ধরে এবং শার্টের কলার ধরে আমাকে জোর করে একটি চেয়ারে বসিয়ে দেন। তিনি বলেন,আমি নাকি ভিডিও ধারণ করেছি এবং তা দেখাতে চাপ দেন। আমি জানাই আমি কোনো ভিডিও করিনি কিন্তু তিনি তা মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভিডিও না দেখালে আমাকে যেতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। পরে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের কুবি প্রতিনিধি আকাশ আল মামুন ঘটনাস্থলে এসে আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযুক্ত সাদেক সাকের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন, "আমি কারো কলার ধরিনি। এটা ভিত্তিহীন।"
এ বিষয়ে জানতে মোতাসিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত জানান, "না না, এরকম ফোন কাড়াকাড়ির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমরা ট্রেজারারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। সেখানে হঠাৎ দেখি কয়েকজন রুমে এসে গিয়েছেন। তাদের মধ্যে শুধু দুজনকে সাংবাদিক হিসেবে চিনতাম, বাকিদের চিনতাম না। সে হিসেবে আমরা বলেছিলাম, “আমরা আপাতত কথা বলি, আপনারা বাইরে যান। নাহয় আপনারা কথা বলুন, আমরা বাইরে যাই।”
এবিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ'র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমি এবিষয়ে কিছুই জানিনা। আমরা খোঁজ নিবো। কেউ দোষী হলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।'
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুনও বলেন তিনি এবিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি খোঁজ নিবেন।
তবে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, একসাথে অনেকজন আমার রুমে প্রবেশ করে এবং তারা সিন্ডিকেট কেন হবে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে চান। আপনার দপ্তরে সাংবাদিকদেরকে হেনস্তা করেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকল শিক্ষার্থীদিকে নিরাপত্তা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। সাংবাদিকদেরকে হেনস্তা করা কোনোভাবেই কাম্য না।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, সাংবাদিকের কলার ধরা কোনোভাবেই ঠিক না। এ ব্যাপারে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।





