শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যার সনাক্ত

পিচ্চি হেলাল মাস্টারমাইন্ড, শ্যুটার কিলার বাদল ভাঙ্গারি রনি গোয়েন্দা জালে

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ন, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:১২ অপরাহ্ন, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে (৬০) গুলি করে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীদের শনাক্ত করেছে  পুলিশ। তাদের গোয়েন্দা জালে রেখে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ  ও গোয়েন্দারা। আরেক শিষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালকে প্রধান আসামি করে নিউমার্কেট থানায় মামলা করা হলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শ্যুটারসহ ৪ জনকে শনাক্ত করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত করছে গোয়েন্দারা। পরিবারের দাবির পাশাপাশি আরও অন্যান্য বিষয় নিয়েও তদন্ত করছে তারা।  মোহাম্মদপুরের বছিলার গরুর হাটের ইজারা নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল টিটনের। এছাড়াও রায়েরবাজার এলাকার চাঁদাবাজির কর্তৃত্ব নেওয়া, বোনজামাই আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে ও সাবেক সেনাপ্রধানের ভাই টিপু হত্যার প্রতিশোধ বিষয়টি আমলে নেওয়া হচ্ছে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুজনকে শনাক্তে বেশ কয়েকজন শ্যুটারের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কিলিং এ অংশ নেওয়া কিলার বাদল ও ভাঙ্গারি  রনিকে গোয়েন্দা নজরদারিতে এনেছে। তাদের গ্রেফতার করলেই মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত হবে। তবে ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টিটনকে হত্যা করা হয়েছে। কোরবানির হাটের ইজারা নিয়ে তিনি দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে ৩-৪ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যাতে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটে, সেজন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে ডিবি। মামলার বাদী ও টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন জানান, গত ২৬ এপ্রিল টিটন ফোন করে তাকে জানায়, বছিলা গরুর হাটের ইজারার শিডিউল নিয়ে ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল ওরফে কাইলা বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ডাগারি রনিদের সঙ্গে ঝামেলা চলছে। ২৭ এপ্রিল টিটন জানান, তাকে ডাকছে উভয়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার জন্য। এরপর জানতে পারি, নিউমার্কেট শাহনেওয়াজ হলের সামনে থেকে টিটনকে গুলি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর টিটনের ভাই রিপন আরও জানান, জামিন পাওয়ার পর টিটন দু’বার যশোরে গিয়েছিল। এর মধ্যে একবার ঈদের সময় তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এমনিতে মোবাইলে অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করত। ভাই হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করে তিনি আরও জানান, টিটনের লাশ যশোরে দাফন করা হয়। জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ছিল। ২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পলাতক থেকে আগের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিল।

নিহত  টিটনের ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন (৫৬) এনআইডি-৩৭১৮৮৫৮১৪৮, পিতা-কে. এম ফখর উদ্দিন, মাতা-আকলিমা খন্দকার, স্থায়ী ঠিকানা-খাপুরা, থানা-মুকসুদপুর, জেলা-গোপালগঞ্জ, এপি সাং-৫৬ খড়কী বামনপাড়া কারবালা, ডাকঘর-যশোর সদর, থানা-কোতয়ালী, জেলা-যশোর থানায় হাজির হয় এজাহার দায়ের করেন। তিনি উল্লেখ আরও করেন আমরা ১১ ভাইবোনদের মধ্যেÑ আমি বড়, ৪র্থ ছোট তাই খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন ডে নাইম আহমেদ (টিউন) ও মো. নাইম আহম্মেদ টিউন (৫১ এনআইডি /অনুসারে বয়স ৬০ বছর), পিতা-কে, এম ফকরুদ্দীন, মাতা-আকলিমা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা-মপুরা, থানা-মুকসুদপুর, জেলা-গোপালগঞ্জ, এপি সাং-২৩৩/১, সুলতানগঞ্জ, থানা-হাজারীবাগ, জেলা-ঢাকা দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর গত ১৩/০৮/২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালত হতে জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমান ঠিকানায় বসবাস করত। আমার ছোট ভাই আমার মোবাইলে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে আমার সাথে কথা বলত যে, বড় ভাই আমি আপনার অনেক আর্থিক ক্ষতি করেছি এখন চেষ্টা করছি আপনাদের আর কোন বদনাম না হয় সেজন্য আমাকে দোয়া করবেন। আমি যেন ভালোভাবে কাজ করে জীবন যাপন করতে পারি। কিছুদিন আগে আবার অ্যাপসের মাধ্যমে জানায়, বড় ভাই আমি একটা শিডিউল কিনছি ইনশাআল্লাহ মোটামুটি কাজের মাধ্যমে থাকতে পারব। গত ২৬/০৪/২০২৬ তারিখে ফোন দিয়ে জানায়, আমার সাথে এনামুল হাসান হেলাল ও পিচ্চি হেলাল, বাদল কিলার বাদল,্ কাইলা বাদল, শাজাহান, রনি, ভাঙ্গারি রনিদের বছিলা গরুর হাটের ইজারার শিডিউল নিয়ে ঝামেলা চলছে। ইং-২৭/০৪/২০২৬ তারিখে চাঁদপুর এপি সাং-সনাতনগড় (রায়ের বাজার হাইস্কুলের সামনে, থানা-হাজারীবাগ, ঢাকা (০১৮১৭-৬৮০৬০১) ছোট ভাই টিটন বলে আমাকে ডাকছে উভয়ের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করবে। গত ইং-২৮/০৪/২০২৬ আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি সাথে সাথে বাসযোগে যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ইং-২৯/০৪/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ০৬.০০ ঘটিকার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পৌঁছে আমার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি এবং নিউমার্কেট থানা পুলিশ কর্তৃক সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করার সময় উপস্থিত থাকি। পরবর্তীতে আমি লোকজনের নিকট জানতে পারি গত ইং-২৮/০৪/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৭.৫০ ঘটিকার সময় ০২ জন অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলযোগে এসে অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনের পরিকল্পনায় আমার ছোট ভাই খন্দকার নাইম আহমেদ টিটনকে ঢাকা নিউমার্কেট থানাধীন শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা পাকা রাস্তার উপর পেয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ডান কানের উপরি ভাগে, বাম সুরুর উপরে কপালে, পিঠের বাম পাশের নিচে ও পিঠের ডান পাশের উপরে, বাম হাতের কুনইয়ের উপরের সামনের দিকে এবং বাম হাতের কুনইয়ের নিচে, বাম বগোলের নিচে এলোপাথারী ভাবে গুলি করলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে উপস্থিত লোকজন উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ভাই টিটনকে ইং-২৮/০৪/২০২৬ তারিখ রাত্র ০৮.২৭ ঘটিকার সময় মৃত বলে ঘোষণা করেন। আমি ঢাকায় এসে উল্লেখিত বিষয়ে আমার পরিবারের লোকজনের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হলো। রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা রুজু  করেছে। নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব জানান পুলিশ হত্যাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেছ। মামলার এজহারও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অন্যান্য গোয়েন্দা তদন্তের মাধ্যমে কিলারদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এদিকে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও চিহ্নিত করে তাদের ধরতে অভিযান শুরু করছে।

আরও পড়ুন: আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি হেলালকে প্রধান আসামি করে মামলা