পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচার দাবি
সমবায় সমিতিতে কোটি টাকার অনিয়ম, হামলা ও আটক রাখার অভিযোগ
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার গাউসুল আজম সুপার মার্কেট দোকান মালিক ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, হুমকি-ধমকি এবং শারীরিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সমিতির বর্তমান সম্পাদক জালাল আহমেদ জসিম বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। মামলার নথি ও বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, সমিতিটি ২০০১ সালে জেলা সমবায় কার্যালয় ঢাকা থেকে নিবন্ধিত হওয়ার পর প্রায় ৮০০ দোকানঘর নির্মাণ করে সদস্যদের মধ্যে বরাদ্দ ও হস্তান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই সমিতির আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ করেন বাদী।
জালাল আহমেদ জসিমের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে দোকান বরাদ্দ ও হস্তান্তরের নামে প্রতি দোকান থেকে কয়েক লাখ থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় করা হলেও এসব অর্থের একটি বড় অংশ সমিতির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি। তার দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ ২৫ বছরের লেনদেন পর্যালোচনা করলে বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো সঠিক হিসাব বা অডিট রিপোর্ট পাওয়া যায় না, যা সমিতির অভ্যন্তরে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও জানান, সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সমিতির খাতা-পত্র ও হিসাব নিকাশ পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান যে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি এবং এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: নাগরিক সেবায় অবহেলায় চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হিসাব-নিকাশ চাওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টি এবং হুমকি দেওয়া শুরু হয়। এমনকি অজ্ঞাত নম্বর থেকেও তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি, যখন সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তদন্তের উদ্দেশ্যে সমিতির কার্যালয়ে গেলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় কয়েকজন আসামির সহযোগিতায় কর্মকর্তাদের অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাকে ও তার স্ত্রীকে অফিস কক্ষে আটকে রাখা হয়।
জালাল আহমেদ জসিম অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার সময় তাকে এবং তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং একপর্যায়ে তার মাথায় পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়, ফলে তারা দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয় বলে তিনি জানান। চিকিৎসা শেষে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ না করে পরে বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন এবং ১৭ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমিতির অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিজের ওপর হামলার ঘটনা প্রকাশ করেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ আকারে প্রচারিত হয় বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন: ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
পরবর্তীতে তিনি দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং সমিতির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তদন্ত, নিরপেক্ষ অডিট ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান। এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যদের একাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, সমিতির আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।





