বাজেট ২০২৬-২৭: একাধিক খাতে ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতির প্রস্তাব

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ন, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫১ অপরাহ্ন, ১১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ কমাতে একাধিক খাতে ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতি ও শুল্ক মওকুফের প্রস্তাব আসছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন। বাজেট ঘোষণার সময় দেশীয় শিল্প ও জনকল্যাণমূলক খাতে বড় ধরনের কর ছাড়ের বিষয়টি উঠে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: একরামুল হক হত্যা মামলা: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন সেনা হেফাজতে

সূত্র জানায়, ভোজ্য তেল উৎপাদন খাতে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রথম পাঁচ বছর ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং এরপর দুই বছর ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা মোট ১০ বছরের কর সুবিধার কাঠামো তৈরি করতে পারে।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য করহার প্রবর্তনের প্রস্তাব আসতে পারে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ বিলের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ভ্যাট ছাড়া অন্যান্য সকল শুল্ক ও কর সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে প্রবৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মোবাইল সিম কার্ডের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবও বাজেটে থাকতে পারে। এর ফলে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা আরও সাশ্রয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও প্রিন্টার আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাটও প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় কমাতে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিটি ডায়ালাইসিসে গড়ে প্রায় ৮০০ টাকা ব্যয় কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত ২১ ধরনের সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতেও সব ধরনের শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম কর ১০০ শতাংশ অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কর অব্যাহতির উদ্যোগ বিনিয়োগ ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ও রাজস্ব আহরণের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।