ডিজিটাল ও এআই-সহায়ক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৮ অপরাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতার ধরনও বদলে যাচ্ছে। সাইবার বুলিং, হয়রানি থেকে শুরু করে এআই ব্যবহার করে নতুন ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আইন ও বিধান প্রণয়ন করা জরুরি বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘Dhaka Dialogue: Ending Digital and AI-Facilitated Violence Against Women’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

আইনমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দেশে সাইবার বুলিং ও সাইবার হয়রানিসহ বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলায় একাধিক আইন রয়েছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে অপরাধের নতুন নতুন ধরন সামনে আসছে। এসব পরিবর্তিত ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিষয়েও ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসব আইনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে ব্যাপক আলোচনা ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে যুগোপযোগী সাইবার আইন হচ্ছে

নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, ডিজিটাল নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন এবং ডকুমেন্টেশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে বাল্যবিবাহ, জোরপূর্বক বিবাহসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর সহায়তা পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

ডিজিটাল ও এআই-সহায়ক সহিংসতা মোকাবিলায় শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার, প্রযুক্তি খাত, নাগরিক সমাজ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে যেকোনো ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা।