জাদুকাটা বালুমহালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৫ শ্রমিকের অর্থ ও কারাদণ্ড
সুনামগঞ্জের বৃহৎ বালুমহাল তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী জাদুকাটা বালুমহালের ইজারাবিহীন জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৫ শ্রমিকের মধ্যে ৩ জনকে ৪৫ দিন করে কারাদণ্ড এবং ২ শ্রমিকের প্রত্যেককে ৪৫ দিন করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।
তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৪ মে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তাহিরপুর উপজেলার সোহালা, লাউরেরগড়, জামাইল্যার চর, গাঘটিয়া, মোদেরগাঁও, মিয়ারচর, বিন্নাকুলি ও শিমুল বাগান সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রবিউর রায়হান। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অপরাধে ৫ শ্রমিককে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স সরানোর অভিযোগ, পরে উদ্ধার
আটককৃতদের মধ্যে ৩ জনের প্রত্যেককে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ৪৫ দিন করে কারাদণ্ড এবং অপর ২ জনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে, মোট ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় জাদুকাটা নদীর তীরবর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে ৬৫০ পিস ইয়াবা ও মা-ছেলেসহ গ্রেফতার ৪
প্রসঙ্গত, গত ২০ এপ্রিল থেকে প্রথমে ১০ দিন এবং পরে জেলার সকল হাওরে টানা বৃষ্টিতে ২ শত কোটি টাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এবং আগাম বন্যার পূর্বাভাস থাকায় আরও ৫ দিন জেলার সকল বালুমহাল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।
কিন্তু জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষেধাজ্ঞার তারিখের পূর্ব থেকে গত প্রায় মাসখানেক ধরে জাদুকাটা বালুমহালের ইজারাবিহীন জায়গায় বালুমহালের ইজারাদার, থানা ও বাদাঘাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ, ইজারাদারদের কয়েকজন প্রতিনিধি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ/বিএনপির কিছু পাতি নেতার যোগসাজশে রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন চলছে। ফলে নদীটির দুই তীরের বসতবাড়ি, মসজিদ, মন্দিরসহ ২০টি গ্রাম নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
এ নিয়ে গত ১০/১২ দিন ধরে বাংলাবাজার পত্রিকাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সুনামগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের নজরে আসে।
পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিৎ কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বালুমহালটির উভয় তীরবর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় টাস্ক ফোর্স গঠন করে জেলা প্রশাসন। ওই অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রবিউর রায়হানকে টাস্ক ফোর্সের অভিযানে যৌথবাহিনীকে তাৎক্ষণিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং ম্যাজিস্টেরিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।





