আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ন, ০৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:০০ অপরাহ্ন, ০৪ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক পরিস্থিতি কাটিয়ে প্রশাসনকে শৃঙ্খলায় আনতে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে “বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি”-এর সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা এবং অবসর—সবই আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

আরও পড়ুন: শিল্প পুনরুজ্জীবন, বাজার স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত মজুদ বাড়াবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত অপরাধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়া একটি আইনি প্রক্রিয়া। তবে এসব চিহ্নিত অপরাধী যাতে পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী জানান, ১ মে থেকে সারা দেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক চোরাচালান ও সিন্ডিকেট দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অসন্তোষ বিবেচনায় নিয়ে ঐতিহ্যবাহী ধাঁচ বজায় রেখে নতুন ইউনিফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে শার্টের রং অপরিবর্তিত থাকলেও প্যান্টে খাকি রং পুনর্বহাল করা হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনকে সফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ গড়ে উঠেছে, যেখানে গঠনমূলক আলোচনা ও আইন প্রণয়ন হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।