কালিয়াকৈরে ৬০ বছরের পুরোনো হাট রক্ষার দাবী এলাকাবাসীর
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীর তীরে গড়ে উঠা ৬০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বড়ইবাড়ী হাট। স্বাধীনতার পর থেকেই এই হাটে অন্তত গাজীপুরের ৫০ গ্রামের মানুষ আসতেন সাপ্তাহিক হাট বাজার করতে। তবে অব্যবস্থাপনায় জলাবদ্ধতা ও কাঁদায় ভগ্নদশায় বৃহত্তম এই হাট।
উপজেলার চাইপাইর ইউনিয়নের বড়ইবাড়ী এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা জুড়ে এই হাটের অবস্থান। পাশের বয়ে গেছে আঁকাবাঁকা তুরাগ নদী। তীর থেকে শুরু হওয়া হাটের চারপাশে প্রায় দুই শতাধিক দোকানপাট, ব্যাংক, বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর পুরো হটের মাঝ অংশে বসে দৈনিক বাজার, ও সাপ্তাহে মঙ্গলবার দিনব্যাপী হাট। সাপ্তাহিক হাটের দিনে উপজেলা শহর থেকে শুরু করে আশপাশের ৫০ গ্রামের মানুষ আসেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে। এই দিনে বেচাকেনা ছাড়িয়ে যায় কোটি টাকার উপরে। কাঁচা বাজার, ধান, চাল, গাছপালা থেকে শুরু করে তৈজসপত্র, মাছ মাংস ও মনিহারি দ্রব্যও ক্রয় করেন শত শত মানুষ। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে স্থানীয় লোকজন শাকসবজি, ফল, হাস, মুরগি, মাছ, গরুর দুধসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারে বিক্রি করতে আনেন। তবে বছর খানেক ধরে অব্যবস্থাপনার কারণে হাটের চিত্র পালটে গেছে। পুরো হাট জুড়ে কাঁদা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে বন্ধের উপক্রম হয়ে পরেছে হাট। যার ফলে আগের মতো লোকজনের আনাগুনা নেই। হাট বসার জায়গা না থাকায় বহু ব্যবসায়ীরাও এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে হাট থেকে। এতে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবী ব্যবসায়ীদের।
আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল নেতার মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল
প্রতি বছর সরকার ১৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে এই হাট নিলাম হয়। অথচ সরকারি ভাবে হাটের উন্নয়নের কথা থাকলেও তা করা হচ্ছেনা। পুরো হাটের পানি নিষ্কাষনের জন্য কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ করছেন হাটের দোকান মালিকরা। এছাড়াও হাটের ভেতর কয়েকটি ভারি যানবাহণ ও ট্রাক্টর দিয়ে পণ্য বহণ করায় আরও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমন অবস্থায় দ্রুত হাটের ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, বড়ইবাড়ী হাটের ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত ড্রেন নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।





