এমপির গলায় রামদা ধরে বাড়িসহ সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

Sanchoy Biswas
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৪ অপরাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে তার গলায় রামদা ধরে বসতবাড়িসহ সম্পত্তি জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার বাদী হয়ে তার তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে দিরাই আদালতে মামলা করেছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে দিনাজপুরে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অন্য আসামিরা হলেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁওয়ের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁওয়ের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম ও মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগ নিয়ে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি কৃষককে বিএসএফ ধরে নেওয়ার পর দুই ভারতীয়কে ধরে আনেন গ্রামবাসী

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তিনি এতে অসম্মতি জানান।

এরপর আসামিরা তার গলায় রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিলে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, ওই সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর এক সমর্থক ওয়াকিব হাসান ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এমপির বাড়িতে যাওয়ার পর তার স্ত্রী পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদী পারভিন আক্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী স্ট্রোক করার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। সেই সুযোগে তার গলায় দা ধরে বসতবাড়ি লিখে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার অনেক আগেই তিনি ওই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী তাকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দিলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। তিনি বলেন, ‘গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলার বিষয়টি বিস্তারিত জেনে আমরা আইনিভাবেই তার মোকাবিলা করব।’

দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু মামলার আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গেছে।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে সৎ ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল বলে জানা গেছে। অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার এমন অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।