মাদুরোর ‘ঘরের মানুষই’ ছিলেন বিশ্বাসঘাতক, সিআইএকে দিচ্ছিলেন নিরাপত্তা তথ্য: রয়টার্স
দুর্গের মতো সুরক্ষিত বাসভবন থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আটক করতে পারার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন একজন ঘনিষ্ঠ বিশ্বাসঘাতক। ওই ব্যক্তি নিয়মিতভাবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে মাদুরোর অবস্থান, চলাফেরা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছিলেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
রোববার প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে চালানো এই অভিযানে যৌথভাবে অংশ নেয় মার্কিন স্পেশাল ফোর্স, সিআইএ ও এফবিআই। ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের এ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল কয়েক মাস ধরে।
আরও পড়ুন: নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
মাদুরোর নিরাপত্তার নকল দুর্গে মহড়া
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ডেল্টা ফোর্স মাদুরোর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের হুবহু নকল কাঠামো তৈরি করে সেখানে একাধিকবার মহড়া চালায়। ভবনে প্রবেশ, সেফ রুম শনাক্তকরণ এবং লক্ষ্যবস্তু নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
আরও পড়ুন: ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের নিন্দা তেহরানের
রয়টার্স জানায়, গত আগস্ট থেকেই সিআইএর একটি ছোট দল ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ছিল। মাদুরোর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি গোপনে সিআইএর হয়ে কাজ করছিলেন এবং প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য সরবরাহ করতেন। অভিযানের সময় মাদুরোর অবস্থান নিশ্চিত করতেও তিনি সরাসরি ভূমিকা রাখেন।
ট্রাম্পের অনুমোদনে চূড়ান্ত অভিযান
সব প্রস্তুতি শেষে চার দিন আগে অভিযানের অনুমোদন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আবহাওয়া অনুকূলে আসার পর শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর গভীর রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। অভিযানে ২০টি ঘাঁটি থেকে ১৫০টির বেশি আকাশযান অংশ নেয়, যার মধ্যে এফ-৩৫, এফ-২২ ও বি-১ বোমারু বিমান ছিল।
রাতের আঁধারে অভিযান
হামলার আড়ালে ভারী অস্ত্রসহ মার্কিন স্পেশাল ফোর্স কারাকাসে প্রবেশ করে। রাত ১টার দিকে তারা মাদুরোর আবাসিক কমপাউন্ডে পৌঁছালে পাল্টা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শেষ পর্যন্ত সেনা ও এফবিআই সদস্যরা ভবনটিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। রয়টার্সের তথ্যমতে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী তখন আত্মসমর্পণ করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, মাদুরো একটি সেফ রুমে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, তবে দরজা বন্ধ করতে ব্যর্থ হন।
অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও কেউ নিহত হননি।
নিউইয়র্কে নেওয়া হয় মাদুরোকে
ভোর ৩টা ২০ মিনিটে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ত্যাগ করে। কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় মাদুরোর একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল—‘ইউএসএস আইও জিমা জাহাজে নিকোলাস মাদুরো’।
পরে মাদুরোকে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের মন্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরো অভিযানকে ‘টেলিভিশন শো দেখার মতো চমকপ্রদ’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে এবং দেশটির বিশাল তেলসম্পদ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।





