পরমাণু আলোচনা চলাকালেই তেহরানে ফের জেন-জি বিক্ষোভ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই ইরানে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে জেন-জি বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরান-এ রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাধারণ মানুষ।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতদের স্মরণ এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ শুরু করে তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী অংশ। এর পাল্টা হিসেবে সরকারের সমর্থক তরুণ-তরুণীরাও মিছিল-সমাবেশের ডাক দেয়।

আরও পড়ুন: জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফা পরমাণু আলোচনা বৃহস্পতিবার

ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, তেহরানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ইরানের সাবেক শাহ মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি-র আমলের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করছেন এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। কেউ কেউ রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও তুলেছেন।

অর্থনৈতিক চাপে উত্তাল পরিস্থিতি

আরও পড়ুন: সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বিকল্প নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারণ করেছেন খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি চরম চাপে রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভে সমর্থন জানান এবং ইরানে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন। তবে পরে তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থান নেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত

গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে। আবার বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।

পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে নতুন করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।