বাসচালক থেকে প্রেসিডেন্ট হন নিকোলাস মাদুরো
কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে। ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ মহড়া, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর যুদ্ধপ্রস্তুতির ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্রমেই উত্তপ্ত করেছে।
নিকোলাস মাদুরোর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল সাধারণ এক পেশা থেকে। তিনি ছিলেন একজন বাসচালক, এবং তখন থেকেই শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণের পর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে উত্তাল ইরান: দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ
২০১৮ সালের ২০ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাদুরো দাবি করেন, তিনি প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট অর্জন করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক মহল, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে সন্দিহান। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তার সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র সংকুচিত করা, বিরোধী দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।
ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ২০১৪ সাল থেকে গভীর সংকটে পড়ে। তেলের দামের পতন, দুর্নীতি এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশটি চরম মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্য সংকটে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয় এবং লাখ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, যা লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে নজিরবিহীন।
আরও পড়ুন: নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
২০১৭ সালে মাদুরো জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেন, যা নিয়েও দেশ-বিদেশে বিস্তারিত বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীরা অভিযোগ করে, ঐক্য ও শান্তির নামে নেওয়া কর্মসূচি মূলত ক্ষমতা সুসংহত করার কৌশল।
মাদুরোর শাসনামলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ তার সরকার ও ঘনিষ্ঠজনদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সংকটের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেমন কলম্বিয়া, ব্রাজিল ও পেরুতেও দেখা যায়।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে আসায় ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলেছে।





