দাবি নাকচ করল ইরানি দূতাবাস

ইরানে বিক্ষোভের মধ্যেই খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ন, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫১ অপরাহ্ন, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। দেশটির বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের প্রতিবাদে টানা বিক্ষোভ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এই দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি বিক্ষোভ আরও তীব্র হলে এবং নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা সেনাবাহিনী সরকারি নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে, পরিবারের প্রায় ২০ জন ঘনিষ্ঠ সদস্যকে নিয়ে দেশ ছাড়তে পারেন। প্রতিবেদনে তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি দাবি করা হয়, খামেনির বিদেশে সম্পদ রয়েছে।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে 'লাশের স্তুপ', চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা

তবে এ বিষয়ে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, এসব দাবি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালেও খামেনি দেশ ছাড়েননি। ফলে চলমান বিক্ষোভের কারণে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের খবর শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ছড়ানো অপপ্রচার, যার মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, হামলার হুমকি আদান–প্রদান

ইরানে বাস্তবে কী পরিস্থিতি?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকজন ইরানি নাগরিক জানান, দেশে মূল্যস্ফীতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এর সমাধান চায়। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেন, তারা খামেনির বিরোধিতা করছেন না।

তাদের মতে, যারা খামেনির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, তারা মূলত সাবেক শাহ রেজা পাহলভির সমর্থক এবং বিদেশি শক্তির ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী।

এদিকে কোম শহরের ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা জামির জাফরি বলেন, খামেনি সম্প্রতি ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে তিনি সক্রিয়ভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, তেহরানে সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে।

খামেনির দেশত্যাগের খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের প্রতিবেদনে নামহীন সূত্রের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।” যাচাই ছাড়া এমন সংবাদ প্রকাশ থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।