'একটু পরপর সাইরেন, মাথার ওপর দিয়ে মিসাইল যাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে কখনো পড়িনি'

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, ০৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, ০৪ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই হামলার ফলে ওই দেশগুলো বিমান চলাচল বন্ধ ও সাময়িক স্থগিতও হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইরানের প্রতিরক্ষামূলক হামলায় এখন পর্যন্ত দুইজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি আহতও হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন: ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাথে ইরানের এই যুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রবাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এই যুদ্ধের ফলে দেশগুলোতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বেশ উদ্বিগ্ন।

আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরে পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

মঙ্গলবার কুয়েত থেকে মাহফুজ রাকিব নামে একজন প্রবাসী বাংলাদেশি বিবিসি বাংলাকে বলেন, 'একটু পরপর সাইরেন, মাথার ওপর দিয়ে মিসাইল যাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে কখনো পড়িনি। আমার বাসার ঠিক ওপরে দেখতে পাচ্ছি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে মিসাইল ইন্টারসেপ্ট করা হচ্ছে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি"।

মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশগুলোর মধ্যে অন্তত চারটি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা। দেশগুলোতে অনেকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাতারের একজন সেখানকার একজন নির্মাণ শ্রমিক জানান, গত শনিবার ইরান প্রতিরক্ষামূলক হামলা শুরুর পর প্রথমে তাদের কাজ চালিয় যেতে বলা হয়েছিল। পরে মিসাইল হামলা বাড়তে থাকলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে কর্তৃপক্ষ। গত তিনদিন ধরে তাদের সব কাজ বন্ধ রয়েছে।

তাদের অনেকেই বলেছেন, এই যুদ্ধ যদি আরো দীর্ঘায়িত হয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, মন্ত্রণালয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ রাখছে। শ্রমবাজারের যেন কোনো প্রভাব না পড়ে বা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংকটে পড়তে না হয়, সেই যোগাযোগ সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে"।

এদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

গত কয়েকদিনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মিসাইল হামলার ভিডিওসহ বিভিন্ন কন্টেন্ট কিংবা লাইভ প্রচারও করতে দেখা গেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের। এসব বন্ধে কোনো কোনো দেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

'বিকট শব্দে একে একে যাচ্ছে জেট বিমান'

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোতে যে সব প্রবাসী বাংলাদেশিরা বর্তমানে অবস্থান করছেন মঙ্গলবার তাদের বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছে বিবিসি বাংলা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি শপিং মলে চাকরি করেন আসিফ মাইনুদ্দিন বাপন। তিনি বলছিলেন, "কিছুক্ষণ পরপর আকাশ থেকে আমরা কিছু যুদ্ধ বিমান ও মিসাইল যেতে দেখছি। কিন্তু সেগুলো কোথায় যাচ্ছে, কে ছুড়তেছে সেগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না"।

"বিশেষ করে জেট বিমানগুলো যখন যাচ্ছে তখন অনেক শব্দ টের পাচ্ছি। কিন্তু মিসাইলগুলো রাতের বেলায় আলো দেখা যাচ্ছে শব্দ টের পাওয়া যাচ্ছে না। আজকে (মঙ্গলবার) ভোরবেলা বিকট শব্দে চার পাঁচটা জেড বিমান খুব দ্রুত বেগে চলে যেতে দেখেছি", বলছিলেন মি. বাপন।

কুয়েত থেকে প্রায় একই রকম পরিস্থিতির কথা বলছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। যিনি সেখানে গাড়ি চালক হিসেবে রয়েছেন।

মি. রহমান বলেন, হঠাৎ হঠাৎ সাইরেন বাজছে। রাতের আকাশে একের পর এক মিসাইল দেখেছি গত দুই দিন। দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকগুলোকে প্রতিরোধও করছে। যখন সেগুলো প্রতিহত করা হচ্ছে তখন প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছে। আতঙ্কে কেউ ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে ঘরের মধ্যে ঢুকেও পড়ছে"।

কোথাও কোথাও আবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সে সব মিসাইল ও যুদ্ধ বিমান ছুটে চলার ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেখা গেছে। লাইভে এসে অনেককে আবার ধারা বর্ণনা দিতেও দেখা গেছে।

কোনো কোনো দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি আবার এসব ভিডিও ছড়িয়ে যে ধারা বর্ণনা করছেন তাতে প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্কও দেখা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার কুয়েতে বাংলাদেশে দূতাবাস একটি বিশেষ সতর্ক বিবৃতি দেয়।

এতে বলা হয়, "কুয়েতের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কোনো দৃশ্য, ছবি বা ভিডিও করা থেকে প্রবাসীদের কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে। একইসঙ্গে এই ধরনের কোনো সংবেদনশীল কন্টেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা বা লাইভ সম্প্রচার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে"।

পরিস্থিতি এখন কেমন?

কাতারের দোহায় থাকেন শ্রমজীবী নিয়ামত উল্লাহ। তিনি জানাচ্ছিলেন, ইরানে হামলা হওয়ার থেকে ইরান যে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালাচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে কাতার একটি।

"গত শনিবার থেকে মিসাইল হামলা শুরুর পরই হামলার অন্তত মিনিটখানেক আগে মোবাইলে একটি অ্যালার্ট ম্যাসেজ আসতো। অনেকে সতর্ক হতো। কিন্তু গতকাল (সোমবার) সকালের পর থেকে সেই ম্যাসেজ আসা বন্ধ হয়ে গেছে"।

বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কি হামলা বন্ধ হয়ে গেছে? কিংবা পরিস্থিতি কি তাহলে স্বাভাবিক হয়ে গেছে?

"না, কোথায় স্বাভাবিক হলো? আগে তাও অ্যালার্ট ম্যাসেজটুকু পেতাম, এখন সেই ম্যাসেজও আসছে না মোবাইলে। ফলে সতর্ক হওয়ার সময়টুকুও পাচ্ছে না অনেকে"।

তিনি বলছিলেন, ''গত শনি, রবি ও সোমবার এই তিনটি একটি নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ ভোরবেলা, দুপুর সন্ধ্যা এই তিন সময় মিসাইল হামলা হতে দেখেছি। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় আর রুটিন অনুযায়ী হামলা হতে দেখি নাই। যখন তখন অ্যাটাক হচ্ছে"।

কাতারের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছিলেন, রোববার মিসাইল হামলায় বন্ধ হয়ে গেছে কাতাদের হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে এটি।

মি. উল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "যারা কাতারের নাগরিক, অর্থ সম্পদ আছে তাদের অনেকে অনেকে রাজধানী দোহা ছেড়ে চলে গেছে সৌদি আরবের সীমানার কাছাকাছি আল খোর কিংবা আল সুমাল এলাকায়। আর প্রবাসী বাংলাদেশি যারা আছেন তাদেরই বেশিরভাগ এখন দোহায় অবস্থান করছে"।

মধ্য রমজানে একচেটিয়া কেনাবেচা চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বিশেষ করে দুবাইয়ে শপিংয়ের জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নাগরিকরা যান দুবাইয়ে।

যে কারণে এই সময় দুবাইয়ের রাস্তাঘাট ও শপিং মলগুলোতে থাকে তীব্র মানুষের চাপ। কিন্তু গত চারদিনে পরিস্থিতি এতটাই বদলেছে যে চিরচেনা সেই দুবাইয়ের রাস্তাঘাট প্রায় জনমানবশূন্য, জানাচ্ছিলেন আসিফ মাইনুদ্দীন বাপন।

মি. বাপন যে শপিং মলে চাকুরী করেন সেখানে সপ্তাহের সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মানুষের চাপ থাকে। কিন্তু এখন সেখানে তেমন কোন ক্রেতাই আসছে না বলেও জানাচ্ছিলেন তিনি।

এমন অবস্থা সৌদি আরবের জেদ্দা, কুয়েত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যদেশগুলোতেও। যা একবাক্যে জানিয়েছেন সে সব দেশের প্রবাসীরা।

বাড়ছে নিত্য-পণ্যের দাম

যুদ্ধের আতঙ্কে শুধু যে মানুষ জনের উপস্থিতি কমেছে বিষয়টি এমন নয়। দেশগুলোতে নিত্য পণ্যের কেনাবেচা যেমন হঠাৎ বেড়েছে, তেমনি কিছু কিছু পণ্যের দাম তিনগুণ চারগুণ পর্যন্তও বেড়েছে।

বাংলাদেশের নাজোয়া কবিরও থাকেন দু্বাইয়ে। তিনি জানাচ্ছিলেন এই যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিত্য-পণ্যের বাজারে।

তিনি বিবিসি বাংলার কাছে একটি পণ্যের তালিকা সরবারহ করেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, কিছু কিছু পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে।

মিজ কবিরের দেওয়া তথ্যমতে আগে প্রতি কেজি আলুর মূল্য যেখানে ছিল দেড় দিরহাম (আরব আমিরাতের মুদ্রা), এখন সেখানে প্রতিকেজির মূল্য দাঁড়িয়েছে আট দিরহামে।

আট থেকে নয় দিরহমামের কাঁচামরিচের বর্তমান দাম ঠেকেছে ২০ দিরহামে। দেড় দিরহামেরও কম ছিল কেজিপ্রতি পিয়াজের দাম। সেটি এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট দিরহামে। একই দামের কেজিপ্রতি টমেটোর দাম এখন হয়েছে নয় দিরহাম।

কাতার থেকে নিয়ামত উল্লাহ বলছিলেন, রাজধানী দোহায়ও গত দুই তিনদিনে কিছু কিছু পণ্যের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে কোনো কোনো পণ্য তাদের কিনতে হচ্ছে বাড়তি দাম দিয়ে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় থাকেন ব্যবসায়ী জিয়াউল হক জিয়া।

তিনি বলছিলেন, তিনি সব সময়ের জন্য একটি সুপার শপ থেকে পণ্য কেনেন। তার কারখানার শ্রমিকদের খাবারের যোগান তিনিই দেন। যে কারণে তিনি একটি সুপার শপ থেকে ডিসকাউন্টমূল্যে চাল ডাল কিনতেন, সেই দোকানে ডিসকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। সুপারশপে কোনো কোনো পণ্যের দামও কিছুটা বাড়তি দেখা গেছে।

এই হামলায় ইরানের বহু ক্ষয়ক্ষতির খবর গণমাধ্যমে আসছে। সেখানে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে বিবিসি বাংলা। তবে তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন কিংবা কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ সরকারের তৎপরতা

সারাবিশ্বে বাংলাদেশের যে শ্রমবাজার রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।

এর আগেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে সংকট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেমন বড় কোন সংকট তৈরি হয়নি, যেমনটি হয়েছে এ দফায়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুইজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আর বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

যে দুইজন নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে একটি বেসামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলায় সালেহ আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি সিলেটের বড়লেখায়।

এ ছাড়া বাহরাইনে আরও এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে তাঁর নাম-পরিচয় বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে কুয়েতের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলায় আরও চার বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সোমবার সাংবাদিকদের বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষাই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।

সংঘাত ইরান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাতেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিমান চলাচল স্থগিত ঘোষণা করে বাংলাদেশ বিমান।

প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকে বিমানবন্দর থেকে ফেরতও আসেন। কোনো কোনো শ্রমিকদের আবার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

এ নিয়ে সরকার সংকট সমাধানে চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের ভিসার মেয়াদ যেন এই সময়টার কথা মাথায় রেখে রিনিউ করা যায় সে বিষয়ে বলা হয়েছে। ওই সমস্ত দেশে দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে কাতার এক মাসের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে। আশাকরি অন্য দেশগুলোও এই পদক্ষেপ নেবে"।

এছাড়াও তিনি জানান, যে সব প্রবাসীরা দেশ থেকে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিমানের টিকেট করেছিলেন তাদের বিষয়টিও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দ্রুতই সমাধান করছে। এছাড়াও বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সাথেও এ নিয়ে সরকার আলোচনা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র: বিবিসি