গাজায় ধসে পড়া ভবন ও তীব্র শীতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় তীব্র শীতকালীন ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও দেয়াল ধসে অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি হামলায় দুর্বল হয়ে পড়া স্থাপনাগুলো ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে পড়ায় এসব প্রাণহানি ঘটে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
আরও পড়ুন: ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে: কাতার
গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ব্যাপক হামলা ও মানবিক সহায়তার ঘাটতির ফলে বিপজ্জনক জীবনযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ত্রাণ সংস্থাগুলোর দাবি, শীতকালীন ঝড় মোকাবিলার মতো নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে ভুগছেন অধিকাংশ ফিলিস্তিনি।
মঙ্গলবারের ঝড়ো আবহাওয়ায় নিহতদের মধ্যে দুই নারী, এক কিশোরী ও এক পুরুষ রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতাল। এ ছাড়া শীতজনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: মিসর, লেবানন ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এক বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাইপোথার্মিয়ায়। আল জাজিরা আরবির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও অপর্যাপ্ত আশ্রয়ের কারণে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় মোতায়েন সেনাদের কাছে ছয়জনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে পশ্চিম রাফাহ এলাকায় অন্তত দুইজন নিহত হয়।
শত শত তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ঝড়ে গাজাজুড়ে শত শত তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়স্থল উড়ে গেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আল-শিফা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গাজা শহরের ভূমধ্যসাগর উপকূলীয় এলাকায় একটি আট মিটার উঁচু দেয়াল ভেঙে একটি তাঁবুর ওপর পড়লে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন ৭২ বছর বয়সী মোহাম্মদ হামুদা, তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি এবং পুত্রবধূ। আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন।
নিহতদের স্বজনরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আবার তাঁবু নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। নিহত মোহাম্মদ হামুদার স্বজন বাসেল হামুদা বলেন, “পৃথিবী আমাদের মৃত্যুর সব রূপ দেখিয়েছে। বোমাবর্ষণ হয়তো সাময়িকভাবে বন্ধ, কিন্তু গাজায় আমরা সব ধরনের মৃত্যুর সাক্ষী হয়েছি।”
এ ছাড়া শহরের পশ্চিম অংশে একটি দেয়াল ধসে পড়ে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-শিফা হাসপাতাল।
মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেন, ঝড়ের কারণে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ইসরায়েলি হামলায় গৃহহীন হয়ে পড়া অধিকাংশ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন।
গাজায় অধিকাংশ ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়ির বদলে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। ঝড়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নিতে গিয়ে আরও ধসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক করছেন। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও প্রয়োজনীয় আশ্রয় সামগ্রী গাজায় পর্যাপ্তভাবে প্রবেশ করতে পারছে না।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ঙঈঐঅ) জানিয়েছে, তাঁবু, ত্রিপল, কম্বল, পোশাক ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে ইসরায়েল এখনও জরুরি ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিশুদের মৃত্যু বাড়ছে
হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার কারণে গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা ও রোগব্যাধি বাড়ছে, যা ভয়াবহ মানবিক সংকটের প্রতিফলন।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, প্রচণ্ড শীতের কারণে বিশেষ করে শিশুদের হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। শুধু চলতি শীতেই হাইপোথার্মিয়ায় অন্তত ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গত তিন মাসে গাজায় ১০০টির বেশি শিশু নিহত হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, “যুদ্ধবিরতির মধ্যেও প্রতিদিন গড়ে একটি শিশু মারা যাচ্ছে।”





