২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর হুমকির পর আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা: ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন জোরদার, অবস্থানে অনড় যুক্তরাষ্ট্র

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রয়টার্স ও আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানে বিক্ষোভ দমনে প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ৫৭ জন ছাড়িয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নিতে বাধ্য হবে। বিশেষ করে এরফান সোলতানি নামের এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিনের মাথায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ওয়াশিংটন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা: যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা সৌদির

ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার বাস্তব সামরিক পদক্ষেপের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। এরই মধ্যে পেন্টাগন ট্রাম্পের কাছে ইরানের পরমাণু স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সাইবার অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা জমা দিয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাতারসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে লোহিত সাগরে ইউএসএস রুজভেল্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, যেকোনো বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরান এক চুলও পিছু হটবে না।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ ঘিরে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অভিযুক্তদের কঠোর সাজা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাশিয়া ও চীন প্রকাশ্যে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ইরানে হামলা চালানো হোয়াইট হাউসের জন্য একটি ‘বড় কৌশলগত ভুল’ হবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিবর্তে ২০২০ সালের মতো সীমিত ড্রোন বা বিমান হামলার মাধ্যমে শীর্ষ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেন।


সূত্র: রয়টার্স