ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি ঘোষণা দিয়েছে, তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড কিংবা জলসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা চালাতে দেওয়া হবে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কার মধ্যেই এই ঘোষণা এলো।
আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: প্রায় ৫০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো সহায়তা দেবে না। এমনকি সম্ভাব্য হামলায় লজিস্টিক সহায়তাও দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, একটি মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইরানের পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে ওয়াশিংটন। ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের পর থেকেই দেশটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাল মার্কিন রণতরী, ইরান ও হিজবুল্লাহর পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে বর্তমানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি এটি। তবে এসব বাস্তবতার পরও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে আমিরাত।
ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সর্বোত্তম পথ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইসলামী প্রজাতন্ত্রবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। চলতি জানুয়ারির শুরু থেকে বিক্ষোভ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব নজিরবিহীন এই বিক্ষোভ দমনের পরও এখনো টিকে রয়েছে। বিরোধীদের একটি অংশ পরিবর্তনের সম্ভাব্য পথ হিসেবে বাইরের হস্তক্ষেপের দিকেও তাকিয়ে আছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এখনো একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।
সূত্র: এএফপি।





