চরভদ্রাসনে খাল খননের আড়ালে চলছে মহা লুটপাট

Sadek Ali
মোস্তফা কামাল, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২২ পূর্বাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫২ অপরাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ভুবনেশ্বর নদী খনন (খাল কাটা) কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ভূতুড়ে শ্রমিক’ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করলেও কাগজে-কলমে ১৭৮ জন শ্রমিক দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৭৮ জন শ্রমিকের নামে ২২ দিনের মজুরি হিসেবে জনপ্রতি ৫০০ টাকা হারে ১১ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ১৭৮ জনের তালিকা থেকে পাঁচজন বাদ দিয়ে ১৭৩ জন শ্রমিকের বিল পরিশোধের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন: ফেনীতে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় ধাপের শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য প্রায় এক সপ্তাহ আগে ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬১০ টাকা সোনালী ব্যাংকের হাজীগঞ্জ শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। গত ২০ জুলাই পর্যন্ত ১২৫ জন শ্রমিক তাদের মজুরি উত্তোলন করলেও তালিকাভুক্ত আরও ৪৮ জন শ্রমিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেলিবারী ঘাট এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩৩ দিন কাজ হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখেছি। অথচ অফিসে ১৭৮ জন শ্রমিকের বিল দাখিল করা হয়েছে বলে শুনছি। এটাকে পুকুর চুরি বললেও কম হবে, এ যেন সাগর চুরি।”

আরও পড়ুন: জিপিএফের ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

চরভদ্রাসনের সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুস সালাম মোল্লা বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের বড় অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাছে ১৭৮ জন শ্রমিকের মাস্টাররোল জমা দেওয়ার পর তাদের অনুকূলে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে টাকা পাঠানো হয়েছে। এখন যদি বলা হয় শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে সেটি কেমন কথা? তবে বর্তমানে আমি বদলি হয়ে গেছি, তাই এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে পারব না।”

এদিকে প্রকল্প কমিটির সেক্রেটারি মো. বশির মোল্লার কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের শ্রমিক তালিকা, মাস্টাররোল, উপস্থিতি রেজিস্টার, ব্যাংক হিসাব ও প্রকৃত শ্রমিকদের তথ্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।