মানবাধিকারের আড়ালে চাঁদাবাজি: নতুন খোলসে আবারও সক্রিয় সামস চক্র
মানবাধিকার রক্ষার ছদ্মবেশে অপপ্রচার, ভুয়া সংবাদ সম্মেলন ও ব্ল্যাকমেইলিংকে আয়ের মূল হাতিয়ার বানানো সুফি সাগর সামসের অপরাধী চক্রটি সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চলতি জুলাই মাসে দেশের একাধিক প্রতিষ্ঠিত তৈরি পোশাক কারখানা, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে প্রশাসনিক অভিযানের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
‘আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ নামের ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে পরিচালিত এই চক্রটি প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মচারীদের হাত করে গোপনে তথ্য বা ভুয়া নথি সংগ্রহ করছে। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বানোয়াট চিঠি পাঠিয়ে, জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার হুমকি এবং সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করছে সিন্ডিকেটটি। চাঁদা না দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে অপপ্রচারের হুমকিসহ নানাভাবে প্রাণনাশের ভয় দেখানোরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আরও পড়ুন: ইতালির ভিসা জালিয়াতি: প্রকৃত পাসপোর্টধারীর বদলে অন্য নারীকে পাঠানো, ৫৬ পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার ৭
অনুসন্ধানে দেখা যায়, চক্রের নেপথ্যে থাকা সুফি সামসের প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র পঞ্চম শ্রেণি। অথচ নামের আগে ভুয়া ‘ডক্টর’ খেতাব বসিয়ে এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনবিহীন ‘বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি’ (বিএইচপি) নামের ভুয়া দলের মহাসচিব পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি চালিয়ে আসছেন তিনি। বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের হয়রানি, মানবপাচার ও অর্থপাচারের পাশাপাশি ব্ল্যাকমেইলিংকে স্থায়ী ব্যবসায় পরিণত করেছিল তার এই সিন্ডিকেট।
এর আগে ময়মনসিংহ-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়াহেদের কাছে চাঁদা দাবি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়। পরদিন ৩০ মার্চ পল্টন থেকে সামসকে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। পরবর্তীতে ১ এপ্রিল ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, সামস যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য রিজেন্টস অব ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইউনিভার্সিটি’ নামের একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের জাল সনদ দিয়ে নিজেকে ‘ডক্টর’ দাবি করতেন। তা ছাড়া মার্কিন দূতাবাসের মামলাসহ বেশ কিছু ফৌজদারি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: সেই শাহেদ আবারো প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু দিন আত্মগোপনে থাকলেও গত মার্চ ও এপ্রিল মাস থেকে নতুন করে সিন্ডিকেট গুছিয়ে আবারও অপতৎপরতা শুরু করে চক্রটি। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা কাজী মনসুরুল হক ছিলেন এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড।
বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সহযোগী হয়ে ফায়দা লোটার পর বর্তমানেও মানবাধিকারের ভুয়া পদবি ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করায় চরম ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী মহল। সুফি সাগর সামস এবং কাজী মনসুরুল হকসহ পুরো চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা।





