রাশিয়ার চার যুদ্ধজাহাজে ইউক্রেনের হামলার দাবি, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ন, ০৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৪ অপরাহ্ন, ২৬ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কৃষ্ণসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নোভোরোসিস্কে রাশিয়ার নৌবহর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার অন্তত চারটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা।

বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবা সূত্রের বরাতে জানায়, সোমবার (২ মার্চ) পরিচালিত এই অভিযানে নোভোরোসিস্ক বন্দরে অবস্থানরত রুশ নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, হামলায় তিন রুশ নাবিক নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ ৪০৩

ইউক্রেনীয় সূত্রগুলো বলছে, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাশিয়ার আধুনিক ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল এসেন’। এই যুদ্ধজাহাজটি দূরপাল্লার কালিব্র ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের জন্য পরিচিত এবং ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলায় ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সরাসরি আঘাতে জাহাজটির ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, রাডার ও গ্রেনেড লঞ্চারসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সামরিক সরঞ্জাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে জাহাজটির ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

আরও পড়ুন: ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত ৯৫, নিখোঁজ শত শত পর্যটক

নোভোরোসিস্ক উপসাগরকে রাশিয়ার অন্যতম সুরক্ষিত সামরিক এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় ড্রোন ও সামরিক ইউনিট সেই প্রতিরক্ষা বলয় অতিক্রম করে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর একটি জাহাজে আগুন ধরে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে রুশ বাহিনীর প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে বলেও জানানো হয়।

এছাড়া ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, ‘অ্যাডমিরাল এসেন’ ছাড়াও রাশিয়ার আরও তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইনসুইপার ‘ভ্যালেনটাইন পিকুলন’ এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন জাহাজ ‘ইয়েসেক’ ও ‘কাশিমভ’।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতে, এই হামলার ফলে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে রাশিয়ার নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সূত্র আরও দাবি করেছে, একই অভিযানে নোভোরোসিস্কের একটি বড় তেল টার্মিনালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টার্মিনালের একাধিক লোডিং স্থাপনা এবং একটি নির্দেশনা রাডার ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে তাদের দাবি।

তবে এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট।