ইরানের মিসাইল হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশ অসহায়
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ড্রোন ও মিসাইলের লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার মাত্র ১২ দিন পার হতে না হতেই ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ তীব্র সংকটের মধ্যে রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা গোলাবারুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারত থেকে পাইপলাইনে বাংলাদেশে এলো ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল
সিবিএস নিউজের সূত্রে জানা গেছে, সীমিত গোলাবারুদ নিয়ে কোন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা জরুরি আর কোনটি উপেক্ষা করা যায়, তা নির্ধারণ করতে হিমশিম খাচ্ছে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো। এই বাছাইকৃত বা ‘সিলেক্টিভ’ পদ্ধতি দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ওয়াশিংটন মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করছে। তবে সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যুদ্ধের তীব্রতা এবং ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে যাওয়ার গতি তুলনায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত ধীর। ফলে আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় অরক্ষিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিন জাহাজে হামলা, একটিতে আগুন
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’ সরিয়ে নিচ্ছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনা সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওংজু কাউন্টি থেকে থাড ব্যবস্থার বিভিন্ন ইউনিট সরানো হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত এবং মিত্রদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ডজন ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ পরিচালনা করায় ইন্টারসেপ্টর খরচের হার আকাশচুম্বী। এই অবস্থায় চলমান উত্তেজনা যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে, তবে আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল শোধনাগার সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।





