হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, বাড়ছে উত্তেজনা

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ন, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৬ অপরাহ্ন, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌ অবরোধ জোরদারের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ীই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল করবে। তবে অবরোধ চালিয়ে গেলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ উন্মুক্ত রাখা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আরও পড়ুন: সোমবার আবারও বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারিত পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে। তবে গালিবাফের বক্তব্যের পর পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান ‘লেনদেন’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি দাবি করেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান হতে পারে। তবে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আরও পড়ুন: অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

এ বিষয়ে গালিবাফ বলেন, এ ধরনের বক্তব্য যুদ্ধ বা কূটনীতিতে কোনো অগ্রগতি আনবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বিভ্রান্তিকর দাবি করেছেন।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনা এ পথের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এদিকে পারমাণবিক ইস্যুতেও দুই পক্ষের অবস্থানে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হতে পারে। তবে ইরান তা সরাসরি নাকচ করে জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক উপাদান দেশের বাইরে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।