ভালো নেই নরসিংদীর মুলি বাঁশের ছৈয়ালরা

Sanchoy Biswas
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৫ অপরাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইট-পাথরের যাঁতাকলে পড়ে নরসিংদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও মুলিবাঁশের ব্যবহার। একটা সময় ছিল মানুষ বাঁশ ও মুলিবাঁশ দিয়ে ঘর থেকে শুরু করে গৃহস্থালি কাজকর্মে ব্যবহার করার জন্য নানান রকমের জিনিসপত্র তৈরি করতো। টিনের ঘরের জন্য নানান কারুকাজে সজ্জিত বেড়া, কার (ঘরের ভিতরে চালের নিচের অংশে সিলিং) তৈরি করতো। এসব কাজ যারা করেন তাদেরকে বলা হয় ছৈয়াল বা মুলির কারিগর। একসময় এসব কারিগরদের চাহিদাও ছিল প্রচুর। কালের বিবর্তনে এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশ ও মুলিবাঁশের ব্যবহার বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এসব কারিগররা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন। কেউবা এই পেশা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে গেলেও অনেকেই বয়স অথবা অন্য কোনো কাজ না জানার কারণে এখনো এই পেশায় জড়িত রয়ে গেছেন। ফলে যারা আছেন তারা অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারুকাজপূর্ণ গ্রামবাংলার এই শৈল্পিক পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণসহ নানামুখী সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন এই পেশায় নিয়োজিত ছৈয়ালরা।

ছৈয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মানুষ এখন বাড়িঘর নির্মাণে ইট-পাথর ও টিন ব্যবহার করলেও গ্রামাঞ্চলে রান্নাঘর ও গরুর ঘর তৈরি করতো মুলিবাঁশ দিয়ে। সেটাও প্রযুক্তির গ্যাড়াকলে পড়ে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব মুলিবাঁশ ব্যবহার না করে, পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ একধরনের রাবার ও প্লাস্টিকের শিট ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ছোট ছোট ঘর। এসব রাবার ও প্লাস্টিকের শিট ব্যবহারে পরিবেশ যেমন হুমকিতে, তেমনি মানুষেরও রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। পরিবেশ রক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এগুলো বর্জনে মানুষকে সচেতন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দরকার বলে মনে করেন তারা।

আরও পড়ুন: ভূয়া তান্ত্রিকের ফাঁদে কিশোরী, ৬৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ গ্রেফতার ৩

নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর, দিলারপুর এবং শিবপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে মুলিবাঁশের ছৈয়ালদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষেরা এ কাজে জড়িত ছিলেন। তাদের দেখাদেখি আমরাও প্রায় ৫০ বছর ধরে এই কাজ করছি। একটা সময় ছিল, মানুষ নতুন ঘর তৈরি করতে চাইলেই আমাদেরকে ডাকতেন বা তারা ছুটে আসতেন। কেমন ডিজাইন হবে, কী ধরনের কারুকাজ করা যায় তা নিয়ে শলাপরামর্শ করতেন। কিন্তু এখন আমাদের কেউ ডাকে না, আমাদের কাজটাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মানুষ এখন দালানকোঠা তৈরি করে। বর্তমানে এই পেশার শ্রমিকরা খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে চলছে আমাদের সংসার। অন্য কোনো কাজ জানা নেই, আবার দিনমজুর করার বয়সও নেই। তাই কষ্ট হলেও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের পুনর্বাসন বা সহজভাবে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতো, তাহলে আমরা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতাম।