নিলামে আরও ৫ কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
দেশে বিদেশি মুদ্রার ‘যথেষ্ট’ মজুদ রয়েছে এ দাবির এক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দিনে বাজার থেকে ১২ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে চার ব্যাংক থেকে ৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের দিন বুধবার শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকে একই দরে ৭ কোটি ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনা এবং ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা কাট-অফ রেটে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আরও পড়ুন: বাজেট ইতিবাচক; ধীরে হলেও চলতি অর্থবছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: এডিবি’র পূর্বাভাস
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার কেনার জন্য ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে নিলামে তুলনামূলক কম দামে ডলার কেনার মাধ্যমে বাজারে একটি বার্তা দেওয়া হয়—ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার আশপাশে স্থিতিশীল রাখাই লক্ষ্য।
বাজারে বর্তমানে ডলারের সরবরাহ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে, দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ দামে কিনছে। যা আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, তবে বাড়তি চাপ সীমিত
মধ্যপ্রাচ্যের ইসরায়েল-ইরান ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা ডলার বাজারে চাপ তৈরির আশঙ্কা তৈরি করলেও রেমিট্যান্সপ্রবাহ শক্তিশালী থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ১৬১ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৮২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের বাজারভিত্তিক হস্তক্ষেপ মূলত বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।





