শৃঙ্খলা নিশ্চিতে দুই মাসেও কার্যকর উদ্যোগ নেই

তেল বিতরণে পাম্পগুলোতে চরম অরাজকপরিস্থিতি

Any Akter
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৩ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • ‘ফুয়েল পাস’ কিউআর কোডে বিতরণ ট্যাগ অফিসার নিউ কোন কিছুই কাজে আসছে না।
  • বিতরণ পরিস্থিতির সুযোগে  মজুদ করছে সঙ্ঘবদ্ধ চক্র।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার সময়ও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট না থাকলেও, পাম্পগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলভাবে বিতরণের কারণেই চারদিকে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় সুযোগসন্ধানীরা বিভিন্ন উপায়ে তেল সংগ্রহ করে মজুত গড়ে তুলছে। মজুতদারদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রকাশ্যে পথে-প্রান্তরে অবৈধ তেলের মজুত দেখা যাচ্ছে। তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘ট্যাগ অফিসার’, ‘রেশনিং লাইন’ ও ‘কিউআর কোড’সহ সব প্রক্রিয়াই প্রায় ব্যর্থ হয়েছে। এই সুযোগে বাইকার, উবার চালক ও পাম্প মালিকদের একটি চক্র অবৈধ উপায়ে তেলের মজুত গড়ে তুলছে। দেশের তেলের পাম্পগুলোকে ঘিরে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও দুর্ঘটনা ঘটছে।  

রাজধানীসহ সারাদেশে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল বিতরণে তীব্র বিশৃঙ্খলা, দীর্ঘ সারি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে অনেক পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কোথাও কোথাও সহিংসতা ও পাম্প ম্যানেজারের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেশনিং ব্যবস্থা বা কিউআর কোডের মাধ্যমে তেল দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীতে ‘ফুয়েল পাস’ কিউআর কোডে জ্বালানি দিচ্ছে দুটি পাম্প।

আরও পড়ুন: সাত কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ সংসদে পাস

জানা গেছে, জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ‘ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন’ ও আসাদগেটের ‘সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে’ গত বৃহস্পতিবার থেকে এই সেবা চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উদ্যোগে তৈরি এই ব্যবস্থায় কিউআর কোড স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার জ্বালানি বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে,, প্রথম ধাপে শুধু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই সেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলক এ ব্যবস্থা সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে। নতুন এ ব্যবস্থায়, প্রতি ব্যবহারকারীর জন্য একটি আলাদা ‘কিউআর কোড’ তৈরি হবে। ফিলিং স্টেশনে কোড স্ক্যান করলেই নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি মিলবে। স্মার্টফোন না থাকলেও ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোড ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিপিসি এমন এক সময়ে এই ডিজিটাল সেবা চালু করল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: হরমুজ পাড়ি দিতে না পেরে শারজায় ফিরছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি সংগ্রহে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পেয়ে এবং দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে কোনো কোনো পাম্পে মারামারি ও বিশৃঙ্খলা ঘটেছে। নড়াইলে গত ২৮ মার্চ তেল না পেয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। কোথাও কোথাও পাম্পে অকটেন-পেট্রোল না থাকার নোটিশ এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগও সামনে এসেছে।

নতুন সেবা জ্বালানি বিভাগ বলছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিক্রির কারণে কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইন, যানজট, একই ব্যক্তি বা যানবাহনের একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলে পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া ‘ডিজিটাল রেকর্ডে’ আসবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষণিক নজরদারি করা যাবে। এই ব্যবস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে যানবাহনভিত্তিক তথ্য যাচাই সহজ হবে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে গত ২৯ মার্চ ফিলিং স্টেশনগুলোতে নজরদারির জন্য ‘ট্যাগ কর্মকর্তা’ নিয়োগের কথা জানায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। পরদিন সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নেই; বরং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেনার প্রবণতাই লাইনের চাপ বাড়িয়েছে। এরপর ২ এপ্রিল জ্বালানি বিভাগ জানায়, অবৈধ মজুদ ঠেকানো ও সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরাতে সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হবে।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটের সময় সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ডিজেল-অকটেন-পেট্রোল সরবরাহে অনিয়ম এবং মজুতের প্রবণতা দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতে সরকার সারাদেশে অভিযান শুরু করে। গেল ৩ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব অভিযানে ৩ হাজার ১১টি মামলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৩৬ জনকে। অভিযানে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৭ লিটার ডিজেল, ৩৬ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন, ৮০ হাজার ৩৭৪ পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে।

এরআগে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ভোক্তা পর্যায়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে তেলের পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম মহানগরে ৬২ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিলেও তাদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে না অধিকাংশ পাম্পে। ফলে পাম্পে চলছে আগের মতোই বিশৃঙ্খলা। বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

এর আগে মঙ্গল ও বুধবার নগরের নতুনব্রিজ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, অক্সিজেন, ডবলমুরিং, নাসিরাবাদ, গণি বেকারি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক পেট্রোল পাম্প ঘুরেও দেখা যায় একই চিত্র। কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কোনো পাম্পে হাজিরা দিয়ে চলে গেছেন, কোনো পাম্পে একেবারেই অনুপস্থিত ছিলেন। অধিকাংশ পাম্পে বিক্রয় কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান তদারকি চোখে পড়েনি। ফলে আগের মতোই বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বিতরণ করা হচ্ছে তেল।  পরে কথা বলে জানা যায়, বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা চলে গেছেন। আবার কেউ অসুস্থতা, কেউ কাজের বাহানা দিয়ে তেল দেওয়া শুরু করে দিয়ে চলে গেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ রাখতে সরকার দেশের সব ফিলিং স্টেশনে গত ৩১ মার্চ ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেয়। চট্টগ্রাম মহানগরে এ সংখ্যা ৬২। এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো পাম্পে জ্বালানি তেল সঠিক মাপে বিক্রি নিশ্চিত করা এবং টিপ-রড বা স্টিক ব্যবহার করে মজুত তদারকি করা। এছাড়া ফিলিং স্টেশনের দৈনিক রেকর্ড নেওয়া, তেল গ্রহণ ও বিক্রির রেকর্ড রেজিস্টার মনিটরিং,ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাণ তদারকি করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ট্যাগ অফিসারদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে এবং দৈনিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে আরও রয়েছে- ডিপো থেকে সরবরাহ করা জ্বালানির পরিমাণ যাচাই, অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা রয়েছে কি না এবং জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রয় প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলছে কি না তা দেখা। সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়, ডিপো থেকে জ্বালানি নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

এক্ষেত্রে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট এবং তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই কর্মকর্তারা মূলত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনায় প্রতিদিন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করেন। মাঠপর্যায়ে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থা মনিটরিং করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ৬২ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে। ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন হলেন-বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন বিপণন কর্মকর্তা শফি মো. শাহরিয়ার খান, সহকারী ব্যবস্থাপক বদরুল হক, বিক্রয় কর্মকর্তা প্রগতি চাকমা, সহকারী ব্যবস্থাপক (আইটি) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ,উপ-ব্যবস্থাপক (সেলস) মো. জসিম উদ্দিন, ব্যবস্থাপক (টিএস) তানভীর হাসান ডালাস, উপ-ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আলী বুলবুল, সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. শাহীন আনোয়ার, পিওপিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (হিসাব) আরিফ মাহমদ খান, পিওপিএলসি কর্মকর্তা (মানবসম্পদ) মো. সফিকুল ইসলাম, জেওসিএলের এজিএম (ডিবি) শেখ জাহিদ আহমেদ, এমপিএলের সিনিয়র অফিসার (টেকনিক্যাল) সুপ্লব কুমার প্রমুখ। ট্যাগ অফিসারদের নির্দিষ্ট কোনো ডিউটি নেই। মূলত তেল গ্রহণ, রেকর্ড সংরক্ষণ, তদারকি, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ, মজুত তদারকি, বিক্রির রেকর্ড রেজিস্টার মনিটরিং, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাণ তদারকি করতে যতক্ষণ সময় যায় ততক্ষণ। প্রত্যেকের দায়িত্বে একাধিক পাম্প আছে। আর তেল দেওয়া শুরু হয় মূলত বিপিসি যখন গাড়ি পাঠায় তখন থেকেই। নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে ট্যাগ অফিসার না থাকায় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দেখা দিচ্ছে প্রধান সমস্যা। কেউ পরে এসে আগে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ লাইনই মানছেন না। অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে ফিরছেন বাড়ি। ফলে লাইনে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।

গত রোববার চট্টগ্রামের কিউ সি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গিয়ে দুই নারী বাইকার বাগবিতণ্ডায় জড়ান। আধাঘণ্টা ধরে তাদের বাগবিতণ্ডা চলতে থাকে, যা নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক নারী বাইকার তেলের জন্য ৪৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। আরেকজন নারী বাইকার হুট করে এসে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। এ নিয়ে তাদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। ও্ই সময়ও ট্যাগ অফিসার ছিলেন না। ওই পাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. শাহীন আনোয়ারের সঙ্গে কথা বলতে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরের নাসিরাবাদ এলাকার মিমি সুপার মার্কেট সংলগ্ন ফয়েজ আহমেদ অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ট্যাগ অফিসার নেই। ওই স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার বদরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,আমি তেল কার্যক্রম উদ্বোধন করে দিয়ে আসছি। রোজা রাখার কারণে একটু আগে চলে এসেছি।

ওই পাম্পের একজন গ্রাহক জানান, শুরুতে তিনি তেলের সিরিয়ালে ছিলেন। ট্যাগ অফিসার আসেননি। তিনি দেখেননি। পরে ওই ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মো. আব্দুল্লাহ নামে এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, সরকার ট্যাগ অফিসার বসিয়েছে শুনেছি, কিন্তু এখানে এসে তো কাউকে দেখি না। তাহলে তদারকি হচ্ছে কীভাবে? তেল নিতে এখনো এক থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। লাইনে দাঁড়িয়েও সবাই তেল পাচ্ছেন না। কারণ তেল শেষ হলেই পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তেল না পেয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কথাকাটাকাটি হয়ে গেছে নিয়মিত ঘটনা। ফয়েজ আহমেদ অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের একজন পাম্পকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুরুতে ট্যাগ অফিসারদের কিছুটা উপস্থিতি দেখা গেলেও এখন তাদের দেখা মিলছে না। আজও তেল দেওয়ার সময় উনি আসেননি। পাম্প কর্তৃপক্ষই তাদের মতো করে চালাচ্ছে। একই দিন পাঁচলাইশ খান ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনেও ট্যাগ অফিসার অনুপস্থিত ছিলেন। ফিলিং স্টেশনটির ম্যানেজার মো. সালেহ বলেন, প্রায় সময়ই ট্যাগ অফিসার থাকেন না। তেল দেওয়ার সময় মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের সরাসরি তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়তে পারে।