ইরান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ব্যারেল ১০৪ ডলার ছাড়ালো
ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। লেনদেনের শুরুতেই তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের নির্দেশ, আটকানো হবে ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, যা সংঘাতের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে এর আগে গত শুক্রবার পাকিস্তানে বৈঠকের খবরের পর জুনে সরবরাহের তেলের দাম কিছুটা কমে ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছিল।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার এখন আবারও যুদ্ধবিরতির আগের অস্থির অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন: ইরান: ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালি অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও সমাধান না আসা এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার রাজনৈতিক প্রভাবও থাকতে পারে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব কাটাতে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।





