মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে বিপ্লবী গার্ডের ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হামলায় ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাদের টার্গেট করে একাধিক মিসাইল ছুড়ে তারা।
আরও পড়ুন: জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার উদ্দেশ্যে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
যদিও সেন্টকম হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করে জানায়নি, তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, হামলাটি জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ইরাকে যৌথ হামলা চালাল সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র
পরে সেন্টকম আরও জানায়, গত তিন দিনে ‘ইরান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী পূর্ব ইরাকে একাধিক অস্ত্র ও রসদ সংরক্ষণস্থলে যৌথ হামলা চালিয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলা সেন্টকমের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে রিয়াদ বলেছে, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেবে।
এর আগে সৌদি আরব দাবি করেছিল, ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক থেকে ড্রোন ছুড়ে দেশটির তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই দিনের বিরতির পর আবারও উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের পরিকল্পনা স্থগিত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্প এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা না চালালে ইরানও হামলা বন্ধ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, লোহিত সাগরে একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে হুথিদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছিল। এরপর সৌদি আরবও হুথিদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও নৌ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে আরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।





