নরসিংদীতে ডাকাতি ও খুনের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৭

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৮:২৪ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীতে ঘটে যাওয়া একাধিক ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতদলের হাতে গৃহকর্তা খুন ও ডাকাতির মূল রহস্য উদঘাটন করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে ৭ জন পেশাদার ডাকাতকে করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানায় পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় মাধবদী থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে আজ সারাদেশে এনসিপির বিক্ষোভ

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার হাসান আলীর ছেলে জুবায়ের হোসেন (২০), একই ইউনিয়নের খড়িয়া উত্তরপাড়া এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে আশিক আহমেদ (২৩), আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোজাহিদ রহমান অপু (২২), মো. ইসলামউদ্দিনের ছেলে মো. সুজন মিয়া (২৫), পাইকারচর ইউনিয়নের চরভাষানিয়া গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে মো. ফারুক মিয়া (৩০), নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার যুগাইদা গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে রোমান (২৮) এবং রূপগঞ্জ থানার আমলাপুর গ্রামের লতিফ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া হানিফ সরদারের ছেলে মো. হৃদয় মিয়া (২২)।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ জুলাই ভোররাতে মাধবদী থানার নূরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে প্রবাসী মিলন মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে একদল সশস্ত্র ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতদের প্রতিরোধ করতে গেলে তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিলন মিয়ার বড় ভাই মো. শাহজাহান (৫৬) নিহত হন এবং তাঁর চাচা মো. সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত হন। ডাকাত দল ওই বাড়ি থেকে ১ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই মাধবদী থানায় একটি ডাকাতি ও হত্যা মামলা (মামলা নং-২৩) দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন: নান্দাইলে বিএনপি নেতার পরলোকগমনে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

ঘটনার পরপরই মাধবদী থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একাধিক দল ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করতে অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার নয় দিনের মধ্যে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ডাকাত দলকে শনাক্ত করে তাদের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি জুবায়েরের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা এবং আশিক ও সুজনের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় এবং বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন এর আগে গত ১১ জুলাই মাধবদীর কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খড়িয়া এলাকায় সংঘটিত ডাকাতি এবং ৩০ জুন পাইকারচর ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর এলাকায় সংঘটিত দিগন্ত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল ফারুক বলেন, কোনো অপরাধীই পার পাবে না। অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ ও ডিবির অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য নরসিংদীবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।