তিন ইরানি পাইলটকে আটকের দাবি প্রত্যাখ্যান কাতারের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন পাইলটকে জীবিত আটক করার অভিযোগ নাকচ করেছে কাতার। দোহার পক্ষ থেকে ইরানের এই দাবি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের উপদেষ্টা মাজেদ আল-আনসারি বলেন, কাতার ‘দৃঢ়ভাবে’ ইরানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখন এ ধরনের দাবি সামনে আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে মিসর: এরদোয়ান

আল-আনসারির ভাষ্য, ইরানি পাইলটরা কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশের পর এবং হামলাকারী বিমানের গতিপথ শনাক্ত হওয়ার পর কাতারি কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে দেশের ভূখণ্ড সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর কাতারের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ পাইলটদের সন্ধানে অভিযান পরিচালনা করে। পরে একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসরণ করে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয় বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে: ট্রাম্প

কাতারি এই কর্মকর্তা বলেন, এপ্রিল মাসে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি অবহিত হতে ইরানকে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দোহা। তবে তেহরান এখনো সেই আমন্ত্রণে কোনো সাড়া দেয়নি।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মার্চে কাতারে হামলার সময় দুটি এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন পাইলটকে জীবিত আটক করে কাতারি বাহিনী।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান কমিটির প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচকে পাঠানো এক চিঠিতে এ অভিযোগ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, ২ মার্চ কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার সময় দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তিন পাইলট জীবিত অবস্থায় কাতারি বাহিনীর হাতে আটক হন। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মজিদ কাজেমি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে জাভাদ সালেহি, আবদোলমজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরুজিয়ান জীবিত অবস্থায় কাতারি বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।