চাপের কাছে মাথা নত করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকির কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকি বাড়লে ইরানের জনগণের প্রতিরোধও আরও জোরালো হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, শক্তি প্রয়োগের ভাষা মেনে না নিলেও সংলাপ ও কূটনীতির পথ ইরান খোলা রাখতে চায়।

আরও পড়ুন: টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম

এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দেন। এর জবাবে পেজেশকিয়ান ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘দাদাগিরির মানসিকতার’ প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি। হরমুজ দিয়ে অন্যরা সুবিধা নেবে, অথচ ইরানের জাহাজ চলাচলে বাধা থাকবে—এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

আরও পড়ুন: ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির অধিকার ছাড়বে না। তবে দেশটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না বলেও জানান তিনি।

ভাষণে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহতদের ছবি প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে ইরানকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার মার্কিন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইরান নিজেই সন্ত্রাসবাদের শিকার।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনাকে গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, যুদ্ধের অবসানের শর্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়েছে। 

ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার ক্ষেত্রে অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের সুযোগ এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়ার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।