ইরানে হামলা হলে কয়েক গুণ বেশি জবাব দেওয়া হবে: আইআরজিসি
ইরানে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলে তার জবাব কয়েক গুণ বেশি শক্তিতে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছেন, সীমিত পরিসরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তার চেয়ে কয়েক গুণ বড় জবাব দিতে প্রস্তুত। এ জন্য বাহিনীর প্রস্তুতি ও অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ‘আজই ইরানে হামলা হতে পারে’, আবার চুক্তিরও সম্ভাবনা: ট্রাম্প
মোহেবি আরও বলেন, ইরানকে ঘিরে শত্রুতামূলক বক্তব্যের বেশির ভাগই গণমাধ্যমের জন্য দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যারা হামলার হুমকি দিচ্ছেন, তাদের কার্যকর সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর অভিযান চালিয়ে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়—এ বিষয়টি হুমকিদাতারা ভালো করেই জানেন। আগের মতো সামরিক পদক্ষেপ আবার নেওয়া হলে তা পরাজয়ে শেষ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চীন উত্তেজনা, ৬-৭ কিমি ভেতরে চীনা সেনা
মোহেবির হুঁশিয়ারি, শত্রুপক্ষ সীমিত আকারে হামলা চালালেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কারণে তার জবাব হবে কয়েক গুণ বেশি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছেন, চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতের দায়িত্বেও থাকা ব্যারাক এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। শুক্রবার তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য এবং আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প জানতে চান, ওই ব্যক্তি কি তাঁর রাষ্ট্রদূত? পরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে মনে করেন তিনি। তবে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সমঝোতার স্মারক থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে পরিস্থিতি অমীমাংসিত রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি





