সুরভীর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৩ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে জুলাইযোদ্ধা সুরভীর বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো এবং রিমান্ড আবেদন করার ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহদী এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর আদালত থেকে পুলিশ সুপার বরাবর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৮ ডিসেম্বর তার পরিবারের পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হলেও মামলায় জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ থাকায় তা নামঞ্জুর করা হয়। এরপর ২৯ ডিসেম্বর পুলিশ সুরভীর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয় ৩১ ডিসেম্বর।

তবে সরকারি ছুটি ও এক আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে রিমান্ড শুনানি পিছিয়ে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন সুরভীকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহদীর আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন: বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে গ্রেপ্তার ইনামের তিন দিনের রিমান্ড

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুরভীর একটি জন্মসনদ ছড়িয়ে পড়লে বয়স নিয়ে বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর ওই দিন বিকালেই সুরভীর পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ খান অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এ রিভিশন আবেদন করেন।

সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ও ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ অমিত কুমার দে সুরভীর রিমান্ড বাতিল করে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতের আদেশের অনুলিপি গাজীপুরের পুলিশ সুপার, কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।