রাজউকের প্লট দুর্নীতি
শেখ হাসিনা ১০, টিউলিপ ৪, রাদওয়ান ও আজমিনার ৭ বছর কারাদণ্ড
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির পৃথক দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছর করে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দুটি মামলার প্রত্যেকটিতে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে দুই মামলায় মোট ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে এক মামলায় রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিককে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন সুবিধা
এছাড়া শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিককেও এক মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পৃথক দুই মামলায় অভিযোগপত্রে আসামির সংখ্যা ৩৬ জন হলেও ব্যক্তি হিসেবে তারা মোট ২২ জন।
আরও পড়ুন: সংবিধানে ফিরলো গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম বলেন, 'আমরা সকল সাক্ষ্য প্রমাণ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি, পৃথক এই দুই মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।'
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। ওই মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিনে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। এই মামলায়ও শেখ হাসিনা ও টিউলিপসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা শহরের বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকার তথ্য গোপন করে পরস্পর যোগসাজশে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তায় ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। শেখ হাসিনা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেছেন এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এই প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। এতে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য ছাড়াও এই মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।
এছাড়া রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা এবং রাজউকের সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলামসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও আসামির তালিকায় রয়েছেন।
গত ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের এবং ১৮ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। এরপর আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে পূর্বাচলের প্লট দুর্নীতির পৃথক চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ওই মামলাগুলোতে অন্য আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।





