বদরুল মোল্লাকেও প্রত্যাহার, কী হচ্ছে ঝালকাঠির এসপি নিয়োগে?
ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে নিয়োগ পাওয়া সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার পদে যোগদান না করার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। দুই কোটিরও বেশি টাকা ঘুষের বিনিময়ে চুক্তি করে পোস্টিং নেওয়ার পর চুক্তি মোতাবেক সময়মতো টাকা পরিশোধ না করার কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের পর পুলিশ সদর দপ্তর এই সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ৫ জুলাই বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে এবারও ঝালকাঠি জেলায় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা যোগদান করতে পারলেন না। এর ঠিক দুই মাস আগে, ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারকে ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। ঝালকাঠি এলাকার নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে প্রত্যুষ ঝালকাঠি জেলার সিআইডি কর্মকর্তা হিসেবে বিএনপি নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, মামলা, গ্রেপ্তার ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে যুক্ত ছিলেন; যা সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়। প্রত্যুষ কুমার মজুমদার ঝালকাঠিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে সিআইডি থেকে বিদায় নিলেও পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় আর যোগদান করতে পারেননি।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
গত দুই মাস ধরে চলছে ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার নিয়োগ নিয়ে এ ধরনের আর্থিক বাণিজ্যের খবর। প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ করে ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার নিয়োগে বড় বড় আর্থিক লেনদেনের রহস্য কী? কী কারণে পুলিশ সুপাররা কোটি কোটি টাকা খরচ করে ঝালকাঠি জেলায় পুলিশ সুপার পদে পোস্টিং নিচ্ছেন? উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ঝালকাঠি জেলায় পুলিশ সুপার পদে পোস্টিংয়ের পর প্রত্যাহার হওয়া প্রত্যুষ কুমার মজুমদারকে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার পদে পদায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মৌখিক নির্দেশে এবারও বদরুল আলম মোল্লাকে যোগদান করতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ সুপার নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অডিও ও বিশ্বাসযোগ্য চুক্তিপত্র প্রকাশের পরও তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? যেকোনো ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) তফসিলভুক্ত গুরুতর অপরাধ। একই সাথে পঞ্চগড় ও ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে আগে নিয়োগ পাওয়া এসপিদেরও এ ধরনের অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, এ ধরনের গুরুতর অপরাধের শাস্তি কি শুধু ওয়ান-স্টপ বা বদলি/সংযুক্ত করা? অথচ অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা বাসির উদ্দিন এখনো কারাগারে আটক আছেন।
আরও পড়ুন: সাজেকে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা





